এস,কে পাল সমীর : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-কালুখালী-বালিয়াকান্দি) আসন এখন নতুন আলোচনার কেন্দ্রে। বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার পর এ আসনটিতে তৈরি হয়েছে ভিন্নধর্মী কৌতূহল।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেন, তখন রাজবাড়ী-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় হারুন অর-রশীদের নাম। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা–কল্পনার অবসান হলেও শুরু হয়েছে নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—‘হারুন বনাম হারুন’।
অন্যদিকে গত ২৬ মে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজবাড়ী জেলা শাখার এক কর্মপরিষদ সভায় রাজবাড়ী-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় হারুন-অর-রশীদ-এর নাম।
এখন দ্বৈত ‘হারুন’ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জমে উঠেছে এ আসনটি। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই মনোনীত প্রার্থীর নাম এক হলেও পরিচয় ও রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ আলাদা।
বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর-রশীদ। তিনি পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা।
বিগত দিনে রাজবাড়ী জেলা বিএনপির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে তিনি জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক, যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখা, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া এবং ইউনিয়ন-উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কমিটি পুনর্গঠনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন বলে স্থানীয় নেতাদের দাবি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পরপরই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাথে যোগাযোগ ও ঐক্যবদ্ধভাবে ধানের শীষকে বিজয়ী করার জন্য কাজ শুরু করেছেন।
রাজবাড়ী-২ আসনে দল তাঁকে মনোনীত করলেও দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে নেতাকর্মীদের মিষ্টিমুখ, মিছিল ও আনন্দ উল্লাস থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. হারুন-অর-রশীদ। তিনি রাজবাড়ী জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি এবং দীর্ঘদিন পাংশা উপজেলা আমির হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্নজীবনে তিনি একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর বাড়ি পাংশা পৌরসভার মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামে। ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা করে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরির লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।
এছাড়াও এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ফলে বহুদলীয় প্রতিযোগিতা হলেও মূল লড়াই বিএনপি ও জামায়াতের ‘হারুন বনাম হারুন’-এর মধ্যেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
রাজবাড়ী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮৫২ জন পুরুষ ভোটার, ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৪ জন নারী ভোটার এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির সক্রিয় ভোটব্যাংক থাকলেও জামায়াতের নীরব সাংগঠনিক প্রভাবও রয়েছে। দুই দলের প্রার্থী নামের মিল থাকায় ভোটারদের মধ্যে ইতোমধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—শেষ পর্যন্ত (হারুন বনাম হারুন) কে জয়ী হন সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাশিদা ইয়াসমীন, ই-মেইল : news@kalukhalitimes.com, ফোনঃ +৮৮০১৭১১-৭৭৫৯২২
ঠিকানা : জোয়াদ্দার প্লাজা, চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড, কালুখালী, রাজবাড়ী ।
২০২৫ © কালুখালী টাইমস কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিতYou cannot copy content of this page