
ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০
স্বৈরশাসিত এরশাদ সরকারের পতনের মুহূর্তে বঙ্গভবনে দেখা যায় বাংলাদেশের রাজনীতির এক বিরল দৃশ্য। নবনিযুক্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদের ভাষণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একই সোফায় পাশাপাশি বসেন তৎকালীন সাতদলীয় জোটের নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও আটদলীয় জোটের নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
বিকেল ৪টার ভাষণকে কেন্দ্র করে দুপুর ৩টার পর থেকেই বঙ্গভবনে আসতে থাকেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ৩টা ৫৮ মিনিটে দরবারকক্ষে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। কিছুক্ষণ পর আলাদা কক্ষে অপেক্ষা করেন শেখ হাসিনা। পরে ৪টা ১৫ মিনিটে তিনি দরবারকক্ষে প্রবেশ করে খালেদা জিয়ার পাশে আসন গ্রহণ করেন। দুই নেত্রী কুশল বিনিময় করেন এবং পরস্পরের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ করেন।
দুই নেত্রীকে পাশাপাশি পেয়ে উপস্থিত আলোকচিত্রীরা তখন বিরল মুহূর্তটি ধারণে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। বঙ্গভবনের দরবারকক্ষে এ দৃশ্যকে গণতন্ত্রের নতুন আশা হিসেবে দেখেন উপস্থিত রাজনৈতিক নেতারা।
৪টা ২৫ মিনিটে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ ভাষণ শুরু করেন। তিনি ১৭ মিনিটের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক পথচলার নতুন সূচনা ও জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ভাষণ শেষে অতিথিরা চা-চক্রে অংশ নেন।
পরের দিন দেশের প্রায় সব পত্র-পত্রিকায় দুই নেত্রীর পাশাপাশি বসা সেই ছবিগুলো সাদাকালো রূপে প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুহূর্তটি তখনকার গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নেয়।
এই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন দৈনিক ইত্তেফাকের রশীদ তালুকদার, অবজারভারের মোয়াজ্জেম হোসেন বুলু, রয়টার্সের রফিকুর রহমান, এপির পাভেল রহমানসহ প্রায় ২০-২২ জন আলোকচিত্রী ও সমসংখ্যক প্রতিবেদক।
সাংবাদিকদের বর্ণনায় জানা যায়, সেদিন দুই নেত্রীর আচরণে কোনো দ্বিধা বা জড়তা ছিল না। মুখে বিজয়ের হাসি, পরনে উভয়েরই ঘিয়ে সাদা শাড়ি—দৃশ্যটি ছিল আনন্দঘন এবং আত্মবিশ্বাসী।
সেদিনের আরও আগে দুই নেত্রীর মধ্যে দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল—খালেদা জিয়ার বোন খুরশীদ জাহানের বাসায় এবং শেখ হাসিনার অ্যাটমিক এনার্জি গেস্ট হাউসে।
সভার দিন বঙ্গভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার, সাইফুর রহমানসহ অনেকে। আওয়ামী লীগের পক্ষে ছিলেন সাজেদা চৌধুরী, তোফায়েল আহমদ, মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যরা। এছাড়া ড. কামাল হোসেন, বেগম জোহরা তাজউদ্দিন, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, মওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ পাঁচ দলীয় জোট ও অন্যান্য দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
যদিও পরবর্তীকালে প্রত্যাশিত জাতীয় ঐক্য বাস্তবায়িত হয়নি, তবু ৬ ডিসেম্বর বিকেলের সেই মিলন দৃশ্য বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক আইকনিক মুহূর্ত হিসেবে রয়ে গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাশিদা ইয়াসমীন, ই-মেইল : news@kalukhalitimes.com, ফোনঃ +৮৮০১৭১১-৭৭৫৯২২
ঠিকানা : জোয়াদ্দার প্লাজা, চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড, কালুখালী, রাজবাড়ী ।
২০২৫ © কালুখালী টাইমস কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিতYou cannot copy content of this page