
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে মো. আলমগীর (৩১) নামে এক বাংলাদেশি জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া আজ শুক্রবার সকাল থেকেও সীমান্তের ওপারে বিকট গোলার শব্দে কেঁপে উঠছে হোয়াইক্যং উত্তরপাড়া এলাকা।
আহত আলমগীর টেকনাফের হোয়াইক্যং বালুখালী গ্রামের সৈয়দ আহমদের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নাফ নদীর মধ্যভাগে জেগে ওঠা ‘বিলাসীর দ্বীপ’ এলাকায় মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গেলে হঠাৎ মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গুলি ছোড়া হয়। এতে আলমগীরের বাঁ হাত গুলিবিদ্ধ হয়। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উখিয়ার কুতুপালং ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দীর্ঘ এক বছর শান্ত থাকার পর হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে তোতার দিয়া, হাসিমের দিয়া ও বিলাসী দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসা (ARSA) এবং নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল থেকে হওয়া গোলার বিকট শব্দে সীমান্তের অন্তত ৮ হাজার বাসিন্দা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। হোয়াইক্যং উত্তরপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদ বলেন, "আজ সকালেও গোলার বিকট শব্দে বাড়িঘর কেঁপে উঠেছে। আমরা খুব ভয়ে আছি।"
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম জানিয়েছেন, সীমান্তে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আহত জেলের পরিবারের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি এবং নাফ নদীতে মাছ ধরার ক্ষেত্রে জেলেদের সতর্ক করা হয়েছে।"
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, কার গুলিতে জেলে আহত হয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও গুলির উৎস মিয়ানমার। নাফ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা হাজারো জেলে এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাশিদা ইয়াসমীন, ই-মেইল : news@kalukhalitimes.com, ফোনঃ +৮৮০১৭১১-৭৭৫৯২২
ঠিকানা : জোয়াদ্দার প্লাজা, চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড, কালুখালী, রাজবাড়ী ।
২০২৫ © কালুখালী টাইমস কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিতYou cannot copy content of this page