
ইরানের সঙ্গে চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ (রণতরী) পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টার মাথায় জাপান সাগরের দিকে দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি, ২০২৬) টোকিও ও সিউলের পক্ষ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার এমন আকস্মিক পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা জিজি প্রেস জানিয়েছে, সনাক্তকৃত দুইটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (EEZ) বাইরে সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ জানিয়েছেন, তাঁরা সিউলের পূর্ব সাগরের দিকে একটি সন্দেহজনক ‘প্রক্ষেপণ’ সনাক্ত করেছেন এবং পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই পরীক্ষার পেছনে তিনটি বড় কারণ থাকতে পারে: ১. নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা: নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুল লক্ষ্যভেদ করার ক্ষমতা আরও উন্নত করা। ২. রুশ যোগসূত্র: রাশিয়ায় অস্ত্র রপ্তানি করার আগে নিয়মিত অস্ত্র পরীক্ষা এবং সক্ষমতা প্রদর্শন। ৩. দলীয় কংগ্রেস: আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় ক্ষমতাসীন দলের ঐতিহাসিক কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম এই সম্মেলনের আগে নেতা কিম জং উন দেশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো এবং সামরিক আধুনিকীকরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী মোতায়েনের ফলে যখন ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়ার এই উস্কানিমূলক তৎপরতা ওয়াশিংটনের ওপর দ্বিমুখী চাপ সৃষ্টি করবে। পিয়ংইয়ংয়ের এই পদক্ষেপের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এই অঞ্চলের মিত্রদের নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।


