
য়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ের বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে। ২৯৯টি আসনের মধ্যে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপি এককভাবে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ও ফলাফল পরিবেশন কেন্দ্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও ৪২টি দলের কোনো প্রার্থীই জয়ের দেখা পাননি। মাত্র ৯টি দলের প্রার্থীরা জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পেরেছেন।
প্রাপ্ত আসন সংখ্যা (২৯৭ আসনের ভিত্তিতে):
-
বিএনপি: ২০৯টি আসন।
-
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ৬৮টি আসন।
-
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ০৬টি আসন।
-
অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র: ১৪টি আসন (এর মধ্যে স্বতন্ত্র ৭ জন এবং ৫টি ছোট দল ১টি করে আসন পেয়েছে)।
আওয়ামী লীগের অবর্তমানে এবারের নির্বাচনে অনেক ছোট ও নতুন দল অংশ নিলেও মূলত লড়াই হয়েছে ‘দ্বি-মেরুকেন্দ্রিক’। বিএনপি ও জামায়াত-এনসিপি জোটের বাইরে থাকা ৪২টি দলের প্রার্থীরা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভিড়ে এই দলগুলোর প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭টির ফলাফল আমরা হাতে পেয়েছি। বাকি দুটি আসনের ফলাফল আইনি জটিলতা ও স্থগিতাদেশের কারণে ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির এই নির্বাচন অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”
এই ফলাফলের মাধ্যমে বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি ২০৯টি আসন পেয়ে একক সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পেয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে যাচ্ছে। নতুন দল হিসেবে এনসিপির ৬টি আসনে জয়লাভ করাকেও রাজনীতির নতুন বাঁক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এক নজরে নির্বাচনী মানচিত্র (২০২৬):
-
মোট আসন: ৩০০ (ভোট হয়েছে ২৯৯টিতে)।
-
বিএনপি: ২০৯ (ধানের শীষ)।
-
জামায়াত: ৬৮ (দাঁড়িপাল্লা)।
-
এনসিপি: ০৬ (শাপলা কলি)।
-
অংশগ্রহণকারী দল: ৫১টি।
-
সংসদে প্রবেশ করা দল: ৯টি।





