
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ও গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ‘ইকে ৫৮৩’ ফ্লাইটে দুবাই হয়ে নেদারল্যান্ডসের পথে রওনা হন ফয়েজ আহমদ। দেশত্যাগের সময় তিনি তাঁর নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাঁর কাছে বিদেশ ভ্রমণের সরকারি আদেশ (জিও) দেখতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে জিও জারি করিয়ে সেটির সফট কপি দেখিয়ে তিনি ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশ ছাড়ার আগে ফয়েজ আহমদ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন। যাওয়ার আগে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী ও কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই তাঁর এই আকস্মিক দেশত্যাগের ঘটনা ঘটল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রযুক্তি খাত সংস্কারের লক্ষ্যে নেদারল্যান্ডস থেকে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে দেশে নিয়ে আসে অন্তর্বর্তী সরকার।
-
নভেম্বর ২০২৪: আইসিটি বিভাগে ‘পলিসি অ্যাডভাইজার’ হিসেবে নিয়োগ পান।
-
৫ মার্চ ২০২৫: প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন রাজনৈতিক দল (এনসিপি) গঠনের লক্ষ্যে তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে ফয়েজ আহমদকে ওই মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বুয়েট স্নাতক ফয়েজ আহমদ নেদারল্যান্ডসের নাগরিক এবং সেখানে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
বিমানবন্দর গোয়েন্দা শাখার সূত্র জানিয়েছে, ফয়েজ তৈয়্যবের বিরুদ্ধে কোনো বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তাঁকে বিমানবন্দরে বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই দেশত্যাগ করেছেন।


