
শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বরাবরই দারিদ্র্যকে ‘জাদুঘরে’ পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়েছেন। তবে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১৯২ দিন দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর প্রস্থানকালে দেশে দারিদ্র্যের হার নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার বরাত দিয়ে সমালোচকরা দাবি করছেন, তাঁর মেয়াদে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ড. ইউনূসের দায়িত্বকালে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে।
বেসরকারি বিনিয়োগ: ২০২৪ সালের জুন মাসে বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের জুনে কমে দাঁড়িয়েছে ২২.৪৮ শতাংশে। চার দশকের মধ্যে বিনিয়োগের এমন পতনকে বিরল বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
এডিপি বাস্তবায়ন: সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-নভেম্বর মেয়াদে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ১১.৫ শতাংশ, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও ব্যাংক খাতের নাজুক অবস্থা প্রকট হয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের এই উল্লম্ফন বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে অন্যতম সর্বোচ্চ। এর ফলে মূলধন সংকটে পড়েছে অনেক ব্যাংক।
ড. ইউনূস বিদায়ী বক্তব্যে দাবি করেছেন যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে। তবে বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ডিসেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৫ শতাংশ। কিন্তু সেই তুলনায় মজুরি না বাড়ায় সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে রিজার্ভ বাড়ানো হলেও এর ফলে শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষক ড. লুবনা তুরীন।
প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও শেষ পর্যন্ত একটি নির্বাচন আয়োজন ছাড়া বড় কোনো মৌলিক সংস্কার সফল হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের কর মওকুফ এবং গ্রামীণ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দ্রুত অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে ‘তিন শূন্য’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ) তত্ত্ব প্রচার করে আসছেন। তবে তাঁর শাসনামলেই দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বাড়ার অভিযোগ ওঠায় তাঁর এই দর্শনের প্রায়োগিক দিক নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনায় এসে তত্ত্ব ও বাস্তবতার যে দূরত্ব তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, তা ভবিষ্যতে তাঁর এই দর্শনের প্রচারে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: রাশিদা ইয়াসমীন, ই-মেইল : news@kalukhalitimes.com, ফোনঃ +৮৮০১৭১১-৭৭৫৯২২
ঠিকানা : জোয়াদ্দার প্লাজা, চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড, কালুখালী, রাজবাড়ী ।
২০২৫ © কালুখালী টাইমস কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিতYou cannot copy content of this page