
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক মাসের সীমান্ত উত্তেজনার পর পরিস্থিতি এখন ‘পুরোদস্তুর যুদ্ধে’ রূপ নিয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়ায় পাকিস্তানের বিমান বাহিনী একযোগে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় তালেবান সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোল্লা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে।’
পাকিস্তান সরকার এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ (Operation Ghazab-lil Haq)। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ একে ‘খোলাখুলি যুদ্ধ’ (Open War) হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পাকিস্তান দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার রাতে সীমান্তে তালেবানের উসকানিমূলক হামলার জবাবে তারা এই বিমান হামলা চালিয়েছে।
-
পাকিস্তানের দাবি: হামলায় অন্তত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে তাদের বেশ কয়েকটি সামরিক সদরদপ্তর ও চেকপোস্ট।
-
আফগানিস্তানের দাবি: তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ হামলার কথা স্বীকার করলেও কোনো প্রাণহানির খবর নাকচ করেছেন। উল্টো তারা দাবি করেছে, তাদের পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের অন্তত ৫৫ জন সেনা নিহত হয়েছে।
ইউরোপভিত্তিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওসিন্ট (OSINT Europe) তাদের এক বার্তায় দাবি করেছে, কাবুলে সদরদপ্তর লক্ষ্য করে চালানো বিমান হামলায় তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র কমান্ডার নিহত হয়েছেন। এছাড়া তালেবান সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ও আখুন্দজাদার জামাতা নিদা মোহাম্মদ নাদিমও এই হামলায় নিহত হয়েছেন বলে কিছু অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে।
তবে তালেবান প্রশাসন বা পাকিস্তান সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আখুন্দজাদার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। উল্লেখ্য, আখুন্দজাদা সাধারণত কান্দাহারে অবস্থান করেন এবং খুব কমই জনসমক্ষে আসেন।
১. কাবুল ও কান্দাহারে আতঙ্ক: শুক্রবার ভোর থেকে আফগান শহরগুলোর ওপর দিয়ে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের ওড়াউড়ি এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। ২. আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: চীন ও ইরান এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। ৩. যুদ্ধ ঘোষণা: পাকিস্তান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ভাষায়, “আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে।” অন্য দিকে তালেবান বাহিনীও তাদের ১৫টি সীমান্ত চৌকি দখলের দাবি করে সর্বাত্মক যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
২০২১ সালে তালেবানের দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সামরিক সংঘাত।


