
রাজবাড়ী সদর উপজেলায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এক গৃহবধূ ও এক তরুণকে মেহগনিগাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এখানেই শেষ নয়, ঘটনার পর স্থানীয়রা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে ওই গৃহবধূর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটান এবং রাতেই ওই তরুণের সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করেন।
গত শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। গতকাল রবিবার (৫ জুলাই) নির্যাতনের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি বাড়ির উঠানে মেহগনিগাছের সঙ্গে একই রশিতে ওই তরুণ ও গৃহবধূকে পিঠমোড়া করে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় সেখানে উপস্থিত কিছু উৎসুক মানুষ তাঁদের নানা আপত্তিকর প্রশ্ন করছিলেন। ভিডিওতে নির্যাতিত তরুণকে বারবার রশির বাঁধন খুলে দেওয়ার অনুরোধ করতে দেখা গেলেও উপস্থিত কয়েকজন তাতে বাধা দেন এবং তরুণকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ফোনে কল দিতে বাধ্য করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ওই তরুণের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তরুণটি ওই গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করতে এলে স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাতেনাতে আটক করেন। এরপর দুজনকে বাড়ির উঠানের গাছের সঙ্গে বেঁধে রাতভর নির্যাতন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা সেখানে গিয়ে দুজনকে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। একপর্যায়ে গৃহবধূর স্বামী আর সংসার করবেন না বলে সিদ্ধান্ত জানান। এরপর স্থানীয় কয়েকজন মাতব্বর থানা-পুলিশকে না জানিয়ে নিজেদের উদ্যোগে সেখানেই বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করেন। পরে রাতেই একজন মৌলভি ডেকে এনে ওই তরুণ ও গৃহবধূর বিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়।
ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। তবে এই ঘটনা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আইনের আশ্রয় নেয়নি।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ জানান, “এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকেই থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি আমরা দেখেছি। নির্যাতনের বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ থাকলেও কাউকে এভাবে বেঁধে নির্যাতন করা এবং জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া দেশের প্রচলিত আইনে মারাত্মক অপরাধ।





