
মো. আকাশ মাহমুদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ, কলকারখানা ও শিল্প খাত যেভাবে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে, তা অতীতের সরকারের ভুলনীতি ও স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতার ফল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজবাড়ীর পাংশায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে জ্বালানি সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “জ্বালানি সংকটের মাধ্যমে আমাদের সাধারণ মানুষ, আমাদের কলকারখানা ও শিল্প যেভাবে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে, তা অতীতের সরকারের ভুলনীতির কারণে এবং স্বজনতোষী পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানকারী নীতির কারণেই আজকের এই জ্বালানি সংকট হয়েছে। এটি তাদের ভুলনীতির পুঞ্জীভূত সমস্যার ফল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট।”
তিনি বলেন, “অতীতের পতিত সরকার যেহেতু আমদানি-নির্ভরতা চেয়েছে, গোষ্ঠীস্বার্থ নিশ্চিত করতে চেয়েছে এবং অলিগার্কিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেয়েছে, সেজন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি।”
বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, “জ্বালানি নিরাপত্তা টেকসই করতে বর্তমান সরকার পুরো পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে সেই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে বলেই আমরা আশা করছি, খুব দ্রুত আমরা স্বস্তি পাব। ২০৩৪ সালের মধ্যে যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির জন্য যে জ্বালানি কাঠামো দরকার, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। সরকার ইতিমধ্যে যে পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে, তার মাধ্যমেই কিছু দিনের মধ্যেই গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যেই এফএসআরই নির্মাণ, ল্যান্ডবেজ এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যে চুক্তিগুলো ইতিমধ্যে হচ্ছে ও যেসব বিষয়ে আলোচনা চলছে, সেগুলো এগিয়ে যাচ্ছে।”
মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সংকট তৈরি হওয়ায় আমাদের দেশের সঙ্গে যেসব দেশের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছিল সেই দেশগুলোর ফোর্স মেজরের কারণে অনেক চড়া দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। যার ফলে সরকার এই খাতে বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি প্রদান করে চলছে। এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ আগে নেওয়া উচিত ছিল, তা আগের সরকার নেয়নি। আমরা এখন সেটি নিচ্ছি। সেটা হলো বিদ্যুৎ গ্রাহককে বিদ্যুৎ উৎপাদকে পরিণত করা। তাহলে আমরা সবাই সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে নিজের বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে পারতাম। তাই আমরা এমন ব্যবস্থা করব, যাতে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে গ্রাহক উৎপাদকে পরিণত হতে পারেন। এর ফলে জ্বালানি খাতে একটি বড় পরিবর্তন ঘটবে। ক্রমান্বয়ে আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাব। এতে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ গ্রাহক উৎপাদকে পরিণত হবে, একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা একটি বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে পারব।”
তিনি বলেন, “সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে যে উপকরণ লাগে, ইতিমধ্যে সেই উপকরণের ওপর শুল্ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে দেশের মধ্যেও সৌরবিদ্যুতের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু উৎপাদন করা যায়। এরই সঙ্গে কৃষিতে এগ্রোভোল্টাইকের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে। বিড করা হচ্ছে এবং বিড নভেম্বরের দিকে শেষ হবে। এরই সঙ্গে বাপেক্সের সঙ্গে যৌথভাবে অংশীদারত্বের ভিত্তিতেও আমরা গ্যাস অনুসন্ধানে যাব।”
আনবিক বিদ্যুৎ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আনবিক বিদ্যুতের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছি। একই সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতে এফএসআরিং ও ল্যান্ডবেজ টার্মিনাল করা যায়, সেই উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ভোলায় যে গ্যাসক্ষেত্র আছে, সেখান থেকে যেমন শিল্পকারখানা স্থাপন হবে, তার সঙ্গে সঙ্গে সার কারখানারও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে দ্রুততার ভিত্তিতে সারও নিশ্চিত করতে পারি।”




