
মোহনগঞ্জে এক ব্যক্তির দ্বৈত পরিচয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক**
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে একই সঙ্গে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—দুই দলের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন বেলায়েত হোসেন নামের এক ব্যক্তি। বিষয়টি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তর সমালোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— “বেলায়েত তুমি কার?”
দুই দলেরই গুরুত্বপূর্ণ পদধারী বেলায়েত
জানা গেছে, মোহনগঞ্জের সমাজ সহিলদেও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জয়পুর গ্রামের তাহের উদ্দিনের ছেলে।
বিএনপি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই বেলায়েত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর অনুমোদিত কমিটিতে তিনি সহ-সভাপতি হন। এর আগেও বহু বছর ওয়ার্ড কমিটিতে সদস্য ছিলেন। গত ১৯ জুন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে ভোটও দেন তিনি।
জামায়াতের দাবি—২০২০ সাল থেকে দায়িত্বে আছেন
ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন,
“বেলায়েত ২০২০ সাল থেকেই আমাদের সাধারণ সম্পাদক। পুলিশ যখন তাকে জামায়াত ট্যাগ দিয়ে গ্রেপ্তার করেছিল, তখন বিএনপি কোনো সহায়তা দেয়নি। আইনি ও মানবিক সহযোগিতা দিয়েছে জামায়াত। পরে কৃতজ্ঞতা থেকেই তিনি জামায়াতে যোগ দেন।”
বিএনপি বলছে—বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলছে
ওই ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. নান্নু মিয়া বলেন,
“বেলায়েত অনেক আগে থেকেই বিএনপির কর্মী। পরে শুনলাম তিনি জামায়াতেও পদ নিয়েছেন। তাকে বহিষ্কারের বিষয়ে ভাবছি। সময়ের অভাবে করা হয়নি। খুব শিগগিরই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।”
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনও একই মত প্রকাশ করে বলেছেন,
“তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেলায়েতের নিজস্ব ব্যাখ্যা
দুই দলের পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন করলে বেলায়েত হোসেন বলেন,
“একসময় বিএনপি করতাম। ২০২১ সাল থেকে জামায়াতে যোগ দিই। এখন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক। বিএনপি থেকে নাম কেটে দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে বলেছি, কিন্তু লিখিত আবেদন দিইনি।”
তিনি আরও বলেন,
“গত ১৯ জুন উপনির্বাচনে ভোট দিইনি, শুধু নির্বাচন দেখতে গিয়েছিলাম।”





