
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টার শোক ও আহ্বান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিশেষ ভাষণে তিনি বলেন, “এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” দেশবাসীকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।
শাহবাগে ছাত্র-জনতার অবস্থান প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানের পরও রাজপথ ছাড়েননি আন্দোলনকারীরা। রাত সোয়া ১১টার দিকে কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা শাহবাগ মোড় অবরোধ করে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। ‘হাদি হাদি’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয় পুরো এলাকা। বিক্ষোভকারীরা এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের আলটিমেটাম দেন। এর আগে ডাকসুর নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য থেকে একটি বিশাল মিছিল শাহবাগে এসে যোগ দেয়।
গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলা বিক্ষোভ চলাকালীন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক ‘প্রথম আলো’ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ও নথিপত্র নিচে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর কিছুক্ষণ পরই ফার্মগেটে অবস্থিত ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’ ভবনেও আগুন দেওয়া হয়।
সহিংসতার আঁচ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও। রাত পৌনে ২টার দিকে ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ছায়ানট’ ভবনে ভাঙচুর ও বাইরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া উত্তরায় আওয়ামী লীগের সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসভবনেও আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ সাত দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ছাত্রনেতা। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢাকা এখন এক থমথমে ও চরম উত্তাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।





