
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জনের বাসভবনে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে একদল বিক্ষোভকারী। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর খুলশী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও হামলা প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টা থেকেই ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হতে থাকেন। তারা জুলাই গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের ভারত থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বাসভবন লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ এক আন্দোলনকারী আহত হন।
সিএমপি কমিশনারের বক্তব্য ঘটনার পর রাত ২টার দিকে বাসবভন পরিদর্শন এবং সহকারী হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, “হামলার সময় হাইকমিশনার বাসভবনেই ছিলেন। বিক্ষোভকারীরা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে হাইকমিশনার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১২ জনকে আটক করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
বর্তমান পরিস্থিতি শুক্রবার সকাল থেকে সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবন ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন্দরনগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।





