
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে এখনো অন্ধকারে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তিনি সীমান্ত পার হয়ে বিদেশে পালিয়েছেন নাকি দেশেই আত্মগোপনে আছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।
জরুরি সংবাদ সম্মেলন রোববার (২২ ডিসেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে হত্যাকারীদের গ্রেফতারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটামের প্রেক্ষাপটে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। তবে সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা সচিব উপস্থিত ছিলেন না; পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা এতে বক্তব্য দেন।
আসামির অবস্থান ও তদন্তের অগ্রগতি অতিরিক্ত আইজিপি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আসামি সম্পর্কে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। জনদাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিরলস কাজ করছেন।” ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ব্যক্তিগত কোনো কারণ নয়, বরং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকার সম্ভাবনা বেশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধান আসামির ভারতের ছবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছবিটির সত্যতা বা তিনি বর্তমানে ভারতে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মানব পাচারকারী ‘ফিলিপ’ ও সীমান্ত সতর্কতা বিজিবির ময়মনসিংহ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ মামলার সন্দেহভাজনদের সীমান্ত পার করতে ‘ফিলিপ’ নামে এক মানব পাচারকারীর নাম উঠে এসেছে। ফিলিপকে গ্রেফতারে বিজিবি তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এবং গোয়েন্দা তৎপরতার সব ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা (টুলস) ব্যবহার করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা গ্রেফতারে বিলম্ব হওয়ার প্রশ্নে অতিরিক্ত আইজিপি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যর্থ নয়। অনেক সময় আসামি গ্রেফতারে দেরি হয়, তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।” একইসঙ্গে যারা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচার চলাকালে আততায়ীর গুলিতে আহত হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা বলে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।





