
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু ক্ষেত্রে সংস্কার হলেও মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি এখনও আশাব্যঞ্জক নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, ভিন্নমত দমন করতে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিশেষ আইনের অপব্যবহার এবং ঢালাও গ্রেপ্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, গত ফেব্রুয়ারিতে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিতে সংস্থাটির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন ৪০টি সুপারিশ প্রদান করলেও সেগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে সাংবাদিক, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভিত্তিহীন অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনা এখনও ঘটছে।
সম্প্রতি সারাদেশে পরিচালিত ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার ব্যক্তিকে আটকের ঘটনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই শুধুমাত্র ভিন্ন মতাদর্শের কারণে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
সারা হোসেন (জ্যেষ্ঠ আইনজীবী): তিনি বলেন, “বর্তমানে যেভাবে ঢালাও মামলা এবং নির্যাতন হচ্ছে, সেখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। মানুষের মধ্যে নতুন ধরনের ভয় কাজ করছে এবং নির্যাতন রোধে প্রয়োজনীয় সুপারিশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।”
নূর খান লিটন (মানবাধিকার কর্মী): তিনি মনে করেন, বিশেষ ক্ষমতা আইন বা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার সরকারকে আরও দুর্বল প্রমাণ করছে। তিনি বলেন, “একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক জায়গায় মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনের আগে পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে।”
অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের মুখপাত্র এএইচএম শাহাদাত হোসাইন জানিয়েছেন, কোনো নিরীহ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হচ্ছে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, অতীতে অপরাধ করেছে বা নাশকতার পরিকল্পনা করছে, কেবল তাদেরকেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকার পরিস্থিতি সন্তোষজনক করতে হলে বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমে আমূল সংস্কার এবং জাতিসংঘের সুপারিশমালার পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি।







