
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. আবদুল মঈন খানের কাছে পরাজিত হয়েছেন এনসিপির প্রার্থী সারোয়ার তুষার। পরাজয়ের পর গত রাতে নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং পরাজয়ের পেছনে জোটের কৌশলগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন।
সারোয়ার তুষার জানান, তিনি জামায়াতকে জোটসঙ্গী হিসেবে ‘অধিকতর বিশ্বস্ত’ মনে করেছিলেন। তিনি বলেন, “তাদের (জামায়াত) কথা ও কাজে মিল থাকবে এটাই ছিল অনুমান। তাদের ব্যাপারে মতাদর্শিক আপত্তি সম্পর্কে আমি অসচেতন ছিলাম না, কিন্তু তাদের ডিল করাটা আমার রাজনীতি ছিল।” তবে তাঁর সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তুষারের মতে, তাঁর পরাজয়ের প্রধান কারণ হলো নির্বাচনী আসনে একক প্রতীক নিশ্চিত করতে না পারা। তিনি চেয়েছিলেন আসনটিতে ‘বাইনারি’ বা দুই মার্কার লড়াই হোক (ধানের শীষ বনাম শাপলা কলি)। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জামায়াতের অসহযোগিতার কারণে সেখানে তিনটি মার্কা থেকে যায়, যা ভোট ভাগ করে দেয়। তাঁর দাবি, “শাপলা কলি দুই মার্কার এক মার্কা হলে আমি শতভাগ নিশ্চয়তাসহ জিতে যেতাম।”
তিনি জামায়াতের সাংগঠনিক কঠোরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী জোটসঙ্গীর ব্যাপারে পূর্ণ যত্নশীল হবে—এমনটাই ছিল আমার ধারণা। আমার ক্ষেত্রে কেন তার ব্যত্যয় ঘটল, কেন তারা তাদের সামান্য একজন জেলার নেতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না (যেখানে বিএনপি হেভিওয়েট রুমিন ফারহানাকে বহিষ্কার করেছে), তার উত্তর আমার জানা নাই।”
তুষার তাঁর স্ট্যাটাসে আরও উল্লেখ করেন যে, এনসিপির একটি অংশ নির্বাচন বিমুখ ছিল এবং অন্য একটি অংশ এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে ছিল। তবে তিনি বাস্তবতার নিরিখে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করার পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে এই ‘রসায়ন’ মাঠ পর্যায়ে কাজ না করায় তিনি এখন চরম আক্ষেপ প্রকাশ করছেন।





