
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-কালুখালী-বালিয়াকান্দি) আসনে ধানের শীষের জোয়ারে বিশাল জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ। প্রায় পৌনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে এই রেকর্ড জয় তাঁকে জেলার গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। নবগঠিত সরকারে তাঁর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজবাড়ীর সর্বত্র এখন জোর গুঞ্জন চলছে।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, মো. হারুন-অর-রশিদ পেয়েছেন মোট ১,৬৯,৯৫৫ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে তাঁর এই বিশাল বিজয়কে রাজবাড়ীর রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
সদ্য ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি সারা দেশে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নতুন মন্ত্রিসভা। রাজবাড়ী-২ আসনের টানা জনপ্রিয় ও দলের দুঃসময়ের এই নেতাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।
-
দলের প্রতি আনুগত্য: দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনকালে মামলা-হামলা মোকাবিলা করে রাজবাড়ীতে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে হারুন-অর-রশিদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
-
প্রঞ্চলিক গুরুত্ব: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে রাজবাড়ী জেলার গুরুত্ব অপরিসীম। গত কয়েক দশকে এই জেলা থেকে তেমন কোনো প্রভাবশালী মন্ত্রী না থাকায় হারুন-অর-রশিদকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে।
-
ক্লিন ইমেজ: স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে রাজবাড়ীবাসীর ধারণা, তাঁকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিলে জেলার সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলছেন, “হারুন-অর-রশিদ কেবল রাজবাড়ীর নেতা নন, তিনি দলের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। ১ লাখ ৬৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে তাঁর এই জয়ই প্রমাণ করে এলাকার মানুষের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা কতটা। আমরা আশা করছি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজবাড়ীবাসীর আবেগের প্রতিফলন ঘটিয়ে তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করবে।”
বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর হারুন-অর-রশিদ এক প্রতিক্রিয়ায় তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই বিজয় জনগণের। দীর্ঘ সময় পর তারা তাদের ভোট ফিরে পেয়েছে। দল যদি আমাকে কোনো দায়িত্ব অর্পণ করে, আমি নিষ্ঠার সাথে তা পালন করব এবং রাজবাড়ীকে একটি আধুনিক মডেল জেলায় রূপান্তর করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাজবাড়ীর অন্য একটি আসনেও বিএনপির প্রার্থী জয়লাভ করেছেন, তবে হারুন-অর-রশিদের এই বিশাল ব্যবধানের জয়টি পুরো বিভাগে বিশেষ নজর কেড়েছে।





