
চুয়াডাঙ্গা জেলার অন্যতম সাহসী গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা এবং পরবর্তীতে চরমপন্থি রাজনীতির আলোচিত নাম নুরুজ্জামান লাল্টু মারা গেছেন। বুধবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় কয়রাডাঙ্গা গ্রামে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এরপর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
নুরুজ্জামান লাল্টুর জীবন ছিল নাটকীয়তায় ঘেরা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি এবং তাঁর বড় ভাই মতিয়ার রহমান মন্টু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেন এবং অসীম সাহসী গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তবে দেশ স্বাধীনের পর তিনি বামপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন ‘পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে তিনি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। নব্বইয়ের দশকে তিনি ‘বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি’ নামক একটি চরমপন্থি সংগঠন গঠন করেন বলে জানিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বেলাল হোসেন।
কুষ্টিয়ায় জাসদ নেতা কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ নেতাকে ব্রাশফায়ারে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন লাল্টু। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই খুলনা বিভাগের তৎকালীন ডিআইজি লুৎফুল কবিরের কাছে সদলবলে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। সে সময় তিনি বিপুল পরিমাণ অস্ত্র জমা দিয়েছিলেন।
দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রায় ১৯ বছর পর কারাগার থেকে মুক্ত হন নুরুজ্জামান লাল্টু। এরপর থেকে তিনি স্বাভাবিক জীবনযাপন শুরু করেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মনোনিবেশ করেন। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানিয়ে বিদায় দেওয়া হয়।





