
ইরান ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগার। সিএনএন-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইন্টারসেপ্টর’ বা প্রতিরোধক মিসাইলের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, ‘টমাহক ল্যান্ড-অ্যাটাক মিসাইল’ এবং ‘এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর’-এর মতো অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
-
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব: গত চার বছর ধরে ইউক্রেনকে সহায়তা করতে গিয়ে ‘প্যাট্রিয়ট’ মিসাইল মজুতের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে শেষ করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
-
লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ: আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা আরও বাড়লে মজুত শূন্য হওয়ার ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির ৪৯ জন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন।
-
নৌ-সক্ষমতা ধ্বংস: সেন্টকম (CENTCOM) দাবি করেছে, ওমান উপসাগরে থাকা ইরানের ১১টি নৌযানই ধ্বংস করা হয়েছে।
-
পরবর্তী লক্ষ্য: মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম ধাপে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার পর এখন দ্বিতীয় ধাপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী তথ্য পাওয়া গেছে:
-
মার্কিন দাবি: হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছেন।
-
আইআরজিসি-র দাবি: ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়েইনি দাবি করেছেন, ‘ট্রু প্রমিজ ৪’ অভিযানের প্রথম দুই দিনে ৬৫০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন।
-
রণতরী পিছু হটা: ইরান দাবি করেছে, বাহরাইনের নৌ-সদরদপ্তরে হামলার পর মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে এক দ্বিমুখী সংকটে রয়েছে। একদিকে দীর্ঘমেয়াদী ইউক্রেন যুদ্ধ তাদের অস্ত্রাগার খালি করেছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন রণাঙ্গন তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর চূড়ান্ত চাপ তৈরি করেছে। যদি ইরানের দাবি অনুযায়ী মার্কিন সেনার প্রাণহানি বিপুল হয়ে থাকে, তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে চরম জবাবদিহিতার মুখে পড়তে হবে।





