
রাজবাড়ীর পাংশায় ঈদগাহ ময়দানে বক্তব্যের সময় মাইক্রোফোন কেরে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ শে মে) সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার জলিলপাড়া ঈদগাহ ময়দানে মাঠে এঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন, উপজেলার বাবুপাড়া ইউনিয়নের জলিলপাড়া গ্রামের মৃত বাহের মন্ডলের ছেলে আক্তার মন্ডল (৪০), ইকরাম খাঁনের ছেলে অন্তর খাঁন (২০),মৃত মমিন মন্ডলের ছেলে আজাদ মন্ডল(৫৫), আব্বাস খাঁনের ছেলে আনোয়ার খাঁন(২৫) ও রোস্তম মাস্টারের ওয়াহেদ আলী।
সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদগাহ ময়দানে বক্তব্য দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই জলিলপাড়া ঈদগাহ কমিটির সহসভাপতি ও সভাপতি দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। ঈদের দিন নামাজের সময় সেই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। ঈদের নামাজের পুর্বে ঈদগাহ কমিটির সহ সহভাপতি ও যশাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল রহমান (সাচ্ছু) বক্তব্য দিতে গেলে স্থানীয় কিছু মুসল্লী নামাজ পড়বেন না বলে ওঠে চলে যেতে চায়, এসময় ওহেদ মন্ডল নামের এক ব্যক্তি সাচ্ছুর হাত থেকে মাইক্রোফোন টি কেড়ে নেন। এ ঘটনা কে কেন্দ্র করে ঈদের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে দূর্গাপুর নতুনপাড়া এলাকা থেকে সাচ্ছুর ছেলে রনি খন্দকার, ওহেদকে মারপিট করে ও মোটরসাইকেল ভাংচুর করেন।
পরে স্থানীয় লোকজন ওয়াহেদ আলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাংশা হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে ওহেদের ভাগ্নে সহ কয়েকজন তাকে হাসপাতালে দেখতে যান। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে জলিলপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে একই ইউনিয়নের রনি খন্দকার, সামছুল খন্দকার, আব্দুল আলিম,জিহাদ রনজু খন্দকার সহ বেশ কয়েক জন সহ তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওহেদ বলেন, ঈদের নামাজের পূর্বে হাসিবুল রহমান সাচ্ছু বক্তব্য দিতে গেলে সবাই উঠে চলে যাচ্ছিলো। তখনই আমি তার কাছ থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে সবাইকে চলে যা যেতে অনুরোধ করি। মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার অপরাধে ঈদের পরের দিন সাচ্ছুর লেছে আমার উপর হামলা করে আমাকে মারপিট করে এবং আমার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
অপর ভুক্তভোগী অন্তর খাঁন বলেন, ঈদের পরের দিন আমার ভাই মামা ওহেদকে মারধর করে, পরে আমরা মামাকে দেখতে হাসপাতালে যাই, হাসপাতাল থেকে থানায় গিয়ে বসি। থানা থেকে বাড়ি আসার সময় জলিলপাড়া স্কুলের সামনে আসলে সাচ্ছুর ছেলে রনি খন্দকার, সামছুল খন্দকার, আব্দুল আলিম, জিহাদ রনজু খন্দকার সহ বেশ কয়েকজন আমাদের উপর হামলা করে কুপিয়ে যখম করে। পরে আমি হাসপাতালে চিকিৎসা নেই।
অন্তর খাঁনের ভাই আনোয়ার খাঁন বলেন, আমাদের উপর যখন হামলা করা হয় তখন রনির আমার দিকে পিস্তল তাক করে বলে তোদের কাউকে আজ ফিরে যেতে দিব না। এ সময় রনির সাথে থাকা কয়েকজন আমাকে পিটিয়ে আহত করে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসিবুল রহমান সাচ্ছু বলেন, ঈদের নামাজের পূর্বে আমি বক্তব্য দিতে গেলে কিছু বখাটে পোলাপান বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আমার হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেয়। পরে আমি আর কিছু বলি নাই নামায পরে বাড়িতে চলে যাই। আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পুর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
অভিযুক্ত রনি খন্দকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে জানতে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেনি। থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল গনি বলেন, মারপিটের ঘটনায় দুইপক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তার অভিযান চলমান রয়েছে।

