
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাফাবি দাবি করেন যে, তেহরানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন এতটাই শক্তিশালী যে তারা নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারি করছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন:
“আমাদের কাছে তথ্য আছে যে তিনি (নেতানিয়াহু) কখন কোথায় যাচ্ছেন এবং কাদের সাথে বৈঠক করছেন। ইসরায়েলি শাসনের শীর্ষ নেতৃত্বকে যেকোনো সময় লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।”
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর তিন দিন পর এই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন হুশিয়ারি এল। তিনি জানান:
-
পরিত্যক্ত স্থানে হামলা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত কয়েক দিনে যে হামলা চালিয়েছে, তার বেশিরভাগই জনশূন্য স্থানে পড়েছে। কারণ, ইরানের সামরিক বাহিনী আগেই তাদের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্রগুলো সরিয়ে নিয়েছিল।
-
যৌথ হামলার প্রতিক্রিয়া: সাফাবি অভিযোগ করেন যে, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব কূটনীতির আড়ালে শুরু থেকেই হামলার পরিকল্পনা করছিল, যা সম্পর্কে তেহরান আগে থেকেই সচেতন ছিল।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু পরবর্তী শূন্যতা নিয়ে সাফাবি আশ্বস্ত করেছেন যে, ইরানের শাসন কাঠামো একক কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী:
-
বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস): খামেনির যোগ্য উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তা সম্পন্ন হবে।
-
অন্তর্বর্তী কাউন্সিল: বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন সদস্য নিয়ে গঠিত একটি কাউন্সিল বর্তমানে রাষ্ট্রের কাজ পরিচালনা করছে।
সাফাবির এই বক্তব্যকে সামরিক বিশ্লেষকরা একটি বড় ধরণের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন। সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানের মনোবল ভেঙে পড়েনি, বরং তারা পাল্টা আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত—এমন বার্তাই দিতে চেয়েছেন তিনি। বিশেষ করে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত জীবনের তথ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি ইসরায়েলি নেতৃত্বের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন।





