
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস ডুবে ২৬ জন নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজবাড়ী। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য ফিটনেসবিহীন যান ও পরিবহন খাতের ‘সিন্ডিকেট’কে দায়ী করে সোমবার (৩০ মার্চ) রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের জনগণ।
শোকাতুর স্বজনদের আহাজারি সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। গত ২৫ মার্চ বাসডুবিতে নিহত জ্যোৎস্না বেগমের শিশু সন্তান আলিফ মোল্লা তার মায়ের ছবি হাতে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে বিচার দাবি করে। কান্নজড়িত কণ্ঠে সে বলে, “আমি আমার মা হত্যার বিচার চাই। আমার মা আর কোনোদিন ফিরবে না, কিন্তু আর কোনো সন্তান যেন এভাবে মা না হারায়। এখানে অবিলম্বে পদ্মা সেতু চাই।”
মানববন্ধনে বক্তারা রাজবাড়ীর পরিবহন খাতের চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসিবুল ইসলাম শিমুল ও অ্যাডভোকেট এম এ খালেদ পাভেল অভিযোগ করেন, রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে এই রুটে নামী-দামি ও উন্নত মানের কোনো বাস কোম্পানিকে ঢুকতে দেওয়া হয় না।
বক্তারা বলেন, “রাজবাড়ীর মানুষকে মান্ধাতা আমলের মুড়ির টিন সদৃশ বাসে চড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। ভালো মানের বাস সার্ভিস চালু করতে চাইলে মালিক সমিতি বাধা দেয়। এই সিন্ডিকেটের কারণেই ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলো সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এবং প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।”
১. দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে দ্রুত দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা। ২. সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অদক্ষ চালকের চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করা। ৩. রাজবাড়ী রুটে উন্নত মানের পরিবহন সেবা নিশ্চিত করতে ‘ওপেন রুট’ ঘোষণা করা। ৪. বাসডুবির ঘটনায় দায়ী চালক ও হেলপারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে স্মারকলিপি ও দাবি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার ভৌমিক। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “ভালো গাড়ি চলে না—এই অভিযোগ সঠিক নয়। শ্যামলী, হানিফ বা গোল্ডেন লাইনের মতো গাড়িগুলো এই রুটেই চলে। তবে সব বাস সব জায়গা দিয়ে চলে না, এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক সমন্বয়। আমরা অন্য রুটে গেলে তারাও আমাদের রুটে আসবে—এই নীতিতেই পরিবহন চলে।”
প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনের ওপর ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। ডুবুরি দলের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই রাজবাড়ীর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।





