
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে অস্ত্র আইনের মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসীন বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সহকারী ঈসমাইল হোসেন জানান, আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলাটি দায়ের করা হয় ঢাকার আদাবর থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়, যা আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ঘটেছিল। ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর আদাবরের বায়তুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে র্যাব-২ অভিযান চালিয়ে ফয়সালকে ধরা হয়। তল্লাশিতে চার রাউন্ড গুলি এবং বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। পরদিন আদাবর থানায় অস্ত্র আইনের মামলাটি দায়ের করেন র্যাবের হাবিলদার মশিউর রহমান।
এজাহারে বলা হয়েছে, ফয়সাল করিম এলাকার চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং মাদক ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি, খুন-জখম এবং জমি দখলসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ‘অপরাধ সংঘটনের জন্য’ তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজের কাছে রেখেছিলেন।
মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ২৮ মার্চ ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র প্রদান করেন আদাবর থানার এসআই জাহিদ হাসান। মামলার বিচার চলাকালে ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য শোনে আদালত। ফয়সাল গত বছরের ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত জামিনে ছিলেন।
এদিকে, ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ফয়সালের নাম আলোচনায় আসে। পুলিশের পক্ষের সিসিটিভি ভিডিওর ভিত্তিতে ফয়সালকে প্রধান আসামি করা হয়।
হাদি পরে ১৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই সময়ে ফয়সালের দেশের বাইরে থাকার খবর আসে সংবাদমাধ্যমে। শেষ পর্যন্ত এ বছর মার্চে ফয়সালকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ঢাকার আদালতে অস্ত্র মামলার শুনানি এগিয়ে যায়।
গত রোববার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে এবং আদালত ফয়সালকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।
রায়ের মাধ্যমে দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অবৈধ অস্ত্রসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।





