
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া বাজারসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কৃষিপণ্য কেনাবেচায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত ‘ধলতা’ বা ‘শুকনা’ প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় পেঁয়াজ ক্রয় সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকরা ।
বুধবার (৫ মে) সকালে সরেজমিনে কালুখালীর রতনদিয়া পেঁয়াজ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রির জন্য হাটে নিয়ে এলেও কোনো পাইকার বা আড়ৎদার উপস্থিত ছিলেন না। ফলে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক পেঁয়াজ বিক্রি না করেই বাড়িতে ফিরে যান। এতে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম দুর্ভোগের শিকার হন।
কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মণে ২ থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত ‘ধলতা’ নেওয়ার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত পণ্য আদায় করতেন। সম্প্রতি প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এই প্রথা বন্ধ হয়ে গেলে কিছু আড়ৎদার ও পাইকার পরিকল্পিতভাবে পেঁয়াজ ক্রয় বন্ধ করে বাজার অচল করার চেষ্টা করছেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শরণাপন্ন হন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইউএনও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরে বিকেল ৩টায় উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামস সাদাত মাহমুদ উল্লাহ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাঈমুর রহমান, ওসি (তদন্ত) সুমন আহমেদ, জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা নাঈম আহমেদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, কৃষক প্রতিনিধি ও বাজার কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ:
উপজেলার সকল বাজারে পাইকার ও আড়ৎদাররা কৃষিপণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে কৃষকদের কাছ থেকে “ধলতা” বা “শুকনা” গ্রহণ করবেন না।
আগামী ১৪ মে’র মধ্যে বিএসটিআই-এর মাধ্যমে প্রতিটি বাজারের ওজন মাপার যন্ত্র ক্যালিব্রেশন নিশ্চিত করতে হবে।
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অধীনে গঠিত বাজার মনিটরিং কমিটি নিয়মিত বাজার তদারকি করবে।
কৃষি বিপণন কর্মকর্তা ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করবেন।
আগামী ১৪ মে’র মধ্যে সকল ব্যবসায়ীকে কৃষি বিপণন লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়ন করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় রাজবাড়ী-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সভা শেষে সংশ্লিষ্টরা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ধলতা প্রথা পরিহার করে ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।




