
মো. আকাশ মাহমুদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ২টার দিকে তিনি মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে স্পিডবোটযোগে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছান।
এ সময় তিনি ঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি ও যাত্রীসেবার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তিনি দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট এলাকাও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন,“আমরা সব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়ার এই ঘাটে যে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক, হৃদয়বিদারক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর মানুষ নতুন কিছু করার চেষ্টা করে, আমরাও সেটিই করছি।”
তিনি আরও বলেন,“নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ফেরিঘাটের পন্টুনের ব্যারিয়ারগুলো আরও বড় করা হচ্ছে। যানবাহন প্রবেশের স্থানেও ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে। নির্ধারিত সংখ্যার অতিরিক্ত কোনো যানবাহন ফেরিতে প্রবেশ করতে পারবে না এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। এছাড়া ফেরিতে ওঠার আগে প্রতিটি গাড়ির যাত্রীদের নেমে যেতে হবে। শুধুমাত্র চালক গাড়ি নিয়ে ফেরিতে উঠবেন। এভাবে আমরা দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কাজ করছি।”
তিনি জানান, মাইকিং ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে যাত্রীদের সচেতন করা হচ্ছে এবং প্রশাসনিকভাবেও বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন,“সাধারণত কোনো দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হয়, পরে বিষয়টি ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায়। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে— কোথাও কোনো দুর্ঘটনা বা অব্যবস্থাপনা তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সবার আগে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। শুধু নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন,“আমরা প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন করছি। কোথাও কোনো ত্রুটি বা ব্যত্যয় আছে কি না, তা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।”
আসন্ন ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন,“ধারণা করছি, এবারের ঈদযাত্রা আগামী রোববার থেকে শুরু হবে। তাই আমরা আবারও ঘাট এলাকায় পরিদর্শনে আসব। সবার সহযোগিতায় যাত্রীদের নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া এবং কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনতে আমরা আশাবাদী।”
তিনি আরও বলেন,“এবার কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকবে। বিষয়টিতেও আমরা সর্বোচ্চ নজরদারি রাখছি।”
এ সময় বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ-পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


