
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে চিপস কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ৯ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী সহিদ মিয়া (৩৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে সরাইল উপজেলার তেলিকান্দা উত্তর পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর অবস্থায় ওই শিশুকে রাতেই ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার মক্তব বিভাগের ছাত্রী এবং তার বাবা একজন সৌদি প্রবাসী। অভিযুক্ত সহিদ মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা এবং ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনা যেভাবে ঘটেছে
-
ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া: শনিবার দুপুরে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এ সময় প্রতিবেশী সহিদ মিয়া তাকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে একটি দূরবর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন।
-
হুমকি ও প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা: বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেন সহিদ। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি নিজেই শিশুটিকে নদীতে গোসল করিয়ে বাড়ির সামনে রেখে আসেন।
-
অসুস্থতা ও প্রকাশ: বাড়িতে ফেরার পর শিশুটি প্রচণ্ড অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। এরপরই পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনের বক্তব্য
মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সরাইল থানা): “জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এর মাধ্যমে আমরা ধর্ষণের বিষয়টি জানতে পারি। খবর পাওয়া মাত্রই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান শুরু হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসামিকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছে।”
রতন কুমার ঢালী (তত্ত্বাবধায়ক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল): “ভুক্তভোগী শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে পেলে বিস্তারিত ও প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।”


