
ঈদের আনন্দঘন ঘরে ফেরার যাত্রা মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকের মাতমে। অতিরিক্ত বাসভাড়া বাঁচাতে ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন একদল শ্রমজীবী মানুষ। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই কেড়ে নিল বহু তাজা প্রাণ। টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনই নওগাঁর মান্দা উপজেলার বাসিন্দা।
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় এলাকায় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মান্দা উপজেলাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্বজন হারানোর কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে ট্রাকটি মহাসড়কের ওপর উল্টে যায় এবং ওপরে থাকা যাত্রীরা ভারী রডের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক, আব্দুল বারেক, বাদশা, সোহাগ, রবিউল ও সাগর। এছাড়া মুর্শিদপুর গ্রামের মইনুর ইসলাম এবং পাকুড়িয়া গ্রামের দুই ভাই মাইনুল ও গিয়াসও নিহত হয়েছেন।
নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন জানান, এসব যুবক নোয়াখালী ও ফেনী এলাকায় ফেরি করে ভাঙা মোবাইল, প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি এবং ফেলে দেওয়া চুল সংগ্রহের কাজ করতেন। ঈদ উপলক্ষে সবাই একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি বলেন, “বাসে জনপ্রতি ১৮০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হয়েছিল। সেই টাকা বাঁচাতেই তারা রডবোঝাই ট্রাকে উঠেছিল। কিন্তু সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে গিয়ে যে জীবনটাই চলে যাবে, তা কখনও ভাবিনি।”
একই ইউনিয়নের ৯ জন উপার্জনক্ষম যুবকের মৃত্যুতে পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সন্তান ও স্বজন হারিয়ে মা-বাবা ও আত্মীয়দের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহায়তায় নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।


