
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় ক্রয়কৃত জমির অতিরিক্ত অংশ দখলের অভিযোগ উঠেছে কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই জমির পূর্ব মালিক পারভেজ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও প্রতিবেশীদের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্ত কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির উপজেলার বহরের কালুখালী এলাকার কে এম শামসুজ্জামান খান এর ছেলে। অপরদিকে পারভেজ শেখ মদাপুর ইউনিয়নের বোয়ালপারা এলাকার মিরু শেখের ছেলে।
জানা যায়, কালুখালী চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে মহিমশাহী-চাঁদপুর মৌজার খতিয়ান নং ৪৮০/৪৮১ এবং দাগ নং ৭২৭, ৭৩৩, ৭৪৮, ৭৫১ ও ৫৫৮-এ অবস্থিত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৩ সালে পারভেজ বিশ্বাস তার মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মালিকদের প্রায় ১৩ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন মহিমশাহী গ্রামের মো. কাদের মোল্লার ছেলে মো. আহাদ মোল্লা, ফকির শেখের ছেলে রফিক শেখ ও আলিম শেখ, মোজাহার মিয়ার ছেলে জানিক মিয়া, মৃত হাজী হেলাল উদ্দিন শেখের ছেলে হাজী শহিদ শেখ এবং কেষ্ট দত্ত।
তাদের অভিযোগ, জমি পরিমাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও পারভেজ বিশ্বাস প্রভাব খাটিয়ে তা বাস্তবায়ন হতে দেননি। পরে তিনি ওই জমি গত মাসে উপজেলার বহরের কালুখালী এলাকার কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির এর কাছে বিক্রি করেন। জমি কেনার পর কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির সেখানে বালু ফেলে ভরাট কাজ শুরু করেন।
এ অবস্থায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভুক্তভোগীরা পুনরায় জমি পরিমাপের উদ্যোগ নেন। তবে কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে তাদের জমি বুঝিয়ে না দিয়ে দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগী জমির মালিক সুমন বলেন, “কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির সম্প্রতি পারভেজের কাছ থেকে জমিটি কিনেছেন। পারভেজ আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় আমাদের প্রায় ১৩ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার জরিপ ও মাপজোকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা অজুহাতে তা সম্পন্ন হতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে জমি পরিমাপের সময়ও সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার দায়িত্ব পালন না করে রহস্যজনকভাবে চলে যান। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সার্ভেয়াররা আরএস নকশা অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করেন। তখন কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির সঠিক মাপ প্রমাণিত হলে তা মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও আমরা খুঁটি স্থাপন করলে তিনি তা উপড়ে ফেলেন। নিজস্ব উদ্যোগে মাপজোক করতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বা আমার পরিবারের কোনো ক্ষতি হলে এর দায় রেজা, মুক্তার মেম্বার ও জুয়েলের।”
অন্য এক ভুক্তভোগী জানান, “ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে জমি পরিমাপ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির দখলে থাকা অংশের মধ্যে আমাদের প্রায় ১৩ শতাংশ জমি রয়েছে। তিনি প্রথমে ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা বললেও পরে সীমানা নির্ধারণের খুঁটি তুলে ফেলেন। আমরা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত সীমানা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছি।”
মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ভুক্তভোগী বলেন, “এক মাস আগে দেশে এসে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি জানতে পারি। পরিমাপের পরও কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির তা মেনে নেননি। পরবর্তীতে আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয় এবং বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করা হয়। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
এক প্রবীণ ভুক্তভোগী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে আমরা এ জমি নিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কার্যকর কোনো সমাধান পাইনি।”
ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্ত, পুনরায় জমি পরিমাপ এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “জমিটি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। এ বিষয়ে সালিশ ও পরিমাপের সময় আমি উপস্থিত ছিলাম। মাপ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত না মেনে জোরপূর্বক প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার কারণে আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কে এম রেজাউল ইসলাম তানভির। তার দাবি, তিনি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছেন এবং কোনো অতিরিক্ত জমি দখল করেননি। উলটা পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা তার জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেছে এবং চাঁদা দাবী করেছে।
তিনি বলেন, “জমি পরিমাপের পর যদি প্রমাণিত হয় যে আমার দখলে অতিরিক্ত কোনো জমি রয়েছে, তাহলে আমি তা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত আছি।”