
২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্স ও স্পেন। তবে শুধু মাঠের লড়াই নয়, খেলোয়াড়দের বাজারমূল্যের হিসাবেও এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনাল। দুই দলের খেলোয়াড়দের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।
যদিও মোট মূল্যমানের দিক থেকে ফ্রান্স স্পেনের চেয়ে এগিয়ে। ফরাসি স্কোয়াডের বাজারমূল্য প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার, যেখানে স্পেনের স্কোয়াডের মূল্য প্রায় ১.৪৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই দলের মধ্যে ব্যবধান প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে মূল্যবান পাঁচ ফুটবলারের মধ্যে চারজনই খেলছেন এই সেমিফাইনালে। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৩৪ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের মূল্য প্রায় ২১০ মিলিয়ন ডলার। ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল অলিসে এবং স্পেনের মিডফিল্ডার পেদ্রি গঞ্জালেস—দুজনেরই বাজারমূল্য প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার। শীর্ষ পাঁচে থাকা নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের মূল্যও প্রায় ২৩৪ মিলিয়ন ডলার হলেও তার দল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে।
এ ছাড়া ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনালে আরও সাতজন খেলোয়াড় রয়েছেন, যাদের প্রত্যেকের বাজারমূল্য ১১৭ মিলিয়ন ডলারের বেশি। দুই দলের স্কোয়াড মিলিয়ে ২২ জন খেলোয়াড়ের মূল্য অন্তত ৫৮ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সাতজন স্পেনের এবং বাকি ১৫ জন ফ্রান্সের।
পজিশনভিত্তিক বাজারমূল্যের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে আকর্ষণীয় চিত্র। গোলকিপারদের ক্ষেত্রে স্পেন এগিয়ে। তাদের তিন গোলরক্ষকের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ১১৪ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ফ্রান্সের গোলকিপারদের মোট মূল্য প্রায় ৬৭ মিলিয়ন ডলার।
রক্ষণভাগে অবশ্য স্পষ্টভাবে এগিয়ে ফ্রান্স। ফরাসি ডিফেন্ডারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৪৭৩ মিলিয়ন ডলার, যা স্পেনের ৩৩৭ মিলিয়ন ডলারের রক্ষণভাগের তুলনায় অনেক বেশি।
মিডফিল্ডে আবার স্পেনের আধিপত্য। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারদের মোট বাজারমূল্য প্রায় ৪৯১ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ফ্রান্সের মিডফিল্ডের মূল্য প্রায় ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার।
সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায় আক্রমণভাগে। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ফুটবলার লামিন ইয়ামাল স্পেনের হয়ে খেললেও সামগ্রিক আক্রমণভাগের মূল্যমানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে ফ্রান্স। ফরাসি উইঙ্গার ও স্ট্রাইকারদের সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৮৭৭ মিলিয়ন ডলার। আক্রমণভাগে গভীরতা ও বিকল্পের প্রাচুর্যই দুই দলের বাজারমূল্যের বড় ব্যবধান তৈরি করেছে।
তবে বাজারমূল্যের হিসাব যাই বলুক, মাঠের লড়াই হবে সমানে সমান। একদিকে এমবাপের ফ্রান্স, অন্যদিকে ইয়ামালের স্পেন। আর সেই কারণেই ২০২৬ বিশ্বকাপের এই ম্যাচটি শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান সেমিফাইনাল হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে।





