
রাজবাড়ীর পাংশায় বসতবাড়িতে অনুমোদনহীনভাবে ফ্লেভার ড্রিংকস রোব ও ড্রিংকো জাতীয় পানীয় তৈরি ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের স্বর্ণগড়া গ্রামের একটি বাড়িতে দোচালা টিনের ঘরে একটি মেশিনের মাধ্যমে এসব পানীয় তৈরি করা হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের মধ্যে এসব পানীয়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে ওই বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন প্রথমে কারখানাটিতে তালা দিয়ে সেখান থেকে সরে যান। পরে কারখানার মালিক মো. লাল মিয়া সেখানে উপস্থিত হলেও কারখানার তালা খুলতে অস্বীকৃতি জানান।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই ঘরে ‘ফ্লেভার ড্রিংকস রোব’, ‘ড্রিংকো’সহ বিভিন্ন ধরনের পানীয় তৈরির কাজ করা হয়। এসব পানীয় তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান ও প্রস্তুত প্রক্রিয়া নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এসব পানীয়ের চাহিদা বেশি হওয়ায় এর স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কারখানার মালিক লাল মিয়া দাবি করেন, বর্তমানে তার ব্যবসা-বাণিজ্য নেই এবং তিনি মেশিনটি বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে কারখানার ঘর তালাবদ্ধ থাকায় ঘরটির জানালা দিয়ে দেখা যায়, ভেতরে একটি মেশিনের সঙ্গে রোব তৈরির সরঞ্জাম রয়েছে। ঘরটি বন্ধ থাকায় মেশিন ও পানীয় তৈরির কার্যক্রম সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লাল মিয়া আরও জানান, ঢাকার চক থেকে শাহজালাল কোম্পানির কাছ থেকে এসব ড্রিংকস তৈরির উপাদান সংগ্রহ করতেন। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার ব্যবসা বা পানীয় উৎপাদনের বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো অনুমোদনপত্র নেই বলে জানান।
সচেতন মহল মনে করেন, যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের পানীয় উৎপাদন ও বাজারজাত করা হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এসব পানীয় বিক্রি ও ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েও তারা দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মোঃ তৈয়বুর রহমান বলেন, কারখানাটি অননুমোদিতভাবে পরিচালনা করায় ইতিপূর্বে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করা হয় এবং কারখানাটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। আমাদের নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় চালু হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।





