
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে ‘সেফ এক্সিট’ ইস্যু। নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কিছু উপদেষ্টা নাকি নিজেদের জন্য নিরাপদ প্রস্থানের পথ খুঁজছেন। তাঁর ভাষায়, “অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছে, কেউ কেউ আবার গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের পর এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “কিছু উপদেষ্টা দায়িত্ব এড়িয়ে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেফ এক্সিট নিতে চাইছেন। পৃথিবীতে সেফ এক্সিট বলতে একটাই জায়গা—মৃত্যু।”
বিএনপির সহ–আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেন, “উপদেষ্টাদের অনেকেই ডুয়েল সিটিজেনশিপধারী। তাই সেফ এক্সিট নিতে তাঁদের খুব কষ্ট হবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, “সেফ এক্সিট নতুন কিছু নয়। ২০০৭ সালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কয়েকজন এমনভাবে দেশ ছাড়েন। এখন আবার একই আলোচনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।”
অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ বলেন, “উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিটের প্রয়োজন নেই। এই সরকার একটি বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে।”
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, “যারা অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে বিদেশে পালাতে চায়, তারাই এখন সেফ এক্সিটের কথা বলছে। আমরা এই দেশের মানুষ, এখানেই জন্ম-মৃত্যু হবে ইনশাআল্লাহ।”
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “নাহিদ ইসলামকেই পরিষ্কার করতে হবে কারা সেফ এক্সিট নিতে চায়। আমি কোথাও পালাব না, দেশেই থাকব।”
এমন নানা বক্তব্যে ‘সেফ এক্সিট’ এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।





