
ময়মনসিংহের ত্রিশালে ‘হানি ট্র্যাপ’ ফাঁদে ফেলে এক চিকিৎসককে আটকে রেখে মারধর ও টাকা আদায়ের ঘটনায় নারীসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) ত্রিশাল উপজেলার বীররামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
এর আগের দিন বুধবার বিকেলে ত্রিশাল পৌরসভার উজানপাড়ার একটি ভাড়া ফ্ল্যাটে চিকিৎসক ডা. শফিকুল ইসলামকে আটকে রেখে ভয়াবহ কাণ্ড ঘটায় প্রতারক চক্র। ঘটনাটি জানিয়ে তিনি মোট ৯ জনকে আসামি করে ত্রিশাল থানায় মামলা করেন।
ভুক্তভোগী ডা. শফিকুল ইসলাম গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। মামলার এফআইআর সূত্রে জানা যায়, ‘জুই চৌধুরী’ নামে একটি ফেক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে তানিয়া আক্তার নামের নারী আসামির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তানিয়া তাকে ত্রিশালে দেখা করতে বলেন।
১৯ নভেম্বর তিনি ত্রিশালে পৌঁছানোর পর সিয়াম নামে এক আসামি তাকে রিসিভ করে উজানপাড়ার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে কথোপকথনের সময় হঠাৎ ঘরে ঢুকে পড়ে রবিউল মোল্লা, আবুল বাশার ও ফরিদুল ইসলাম। পরে পাশের রুম থেকে সোনালী, রাজনা, রাবেয়াসহ আরও কয়েকজন এসে চিকিৎসককে ঘিরে ধরে।
পরিকল্পিতভাবে দুই নারীকে পাশে বসিয়ে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয়। এরপর ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে হত্যা করে গুম করার হুমকি দেয় প্রতারক চক্র।
ভয়ে প্রথমে নিজের কাছে থাকা ২২,৫০০ টাকা দেন চিকিৎসক। পরবর্তীতে মারধর করে তাঁর পরিবার থেকে বিকাশের মাধ্যমে আরও ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয়। টাকা নেওয়ার পর হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই তিনি থানায় যোগাযোগ করেন এবং মামলা করেন।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ জানান, চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় আমিরনের ব্যাগ থেকে ৫৬,৮৫০ টাকা এবং চক্রের ব্যবহৃত ৬টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ বলছে, পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ চক্রটি আগে থেকেও এ ধরনের প্রতারণা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





