
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক ধানুয়া কামালপুর আজ মুক্ত দিবস পালন করছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গন ধানুয়া কামালপুর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত হয়। ওইদিন পাকবাহিনীর মোট ১৬২ জন সদস্য অস্ত্রসহ আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
ধানুয়া কামালপুর মুক্ত হওয়ার মধ্যেই খুলে যায় জামালপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল হয়ে রাজধানী ঢাকামুক্তির পথ। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর সদর দপ্তর ছিল ভারতের মহেন্দ্রগঞ্জে এবং প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধীনে ১১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন কর্নেল আবু তাহের, বীর উত্তম।
তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা দখলের লক্ষ্যকে সামনে রেখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ধানুয়া কামালপুরে গড়ে তোলে শক্তিশালী ঘাঁটি। এই ঘাঁটি দখলে নিতে ১৯৭১ সালের ১২ জুন থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে পাকবাহিনীর দফায় দফায় সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এরমধ্যে ৩১ জুলাইয়ের রাতে সংঘটিত হয় সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে ক্যাপ্টেন সালাহ উদ্দিনসহ ১৯৪ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং পাকবাহিনীর একজন মেজরসহ ৪৯৭ জন সেনা নিহত হয়। একই যুদ্ধে মর্টার শেলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে একটি পা হারান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল আবু তাহের।
৩ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী কামালপুর বিওপিতে আক্রমণ চালায়। অতিরিক্ত আর্টিলারি গোলাবর্ষণ সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি। পরদিন বিমান হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে শুরু হয় চূড়ান্ত আক্রমণ। আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে মেজর জেনারেল গিল পাক বিওপি কমান্ডারের কাছে একাধিক চিঠি পাঠান বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মৃত্যুঝুঁকি জেনেও প্রথম চিঠিটি পৌঁছে দেন মুক্তিযোদ্ধা বশীর আহমদ, বীর প্রতীক। পরে একই বার্তা নিয়ে যান মুক্তিযোদ্ধা সঞ্জু।
চূড়ান্ত বিমান হামলা শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অসমর্থ হয়ে পাকবাহিনীর গ্যারিসন কমান্ডার আহসান মালিক আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। তার সঙ্গে মোট ১৬২ জন সেনা অস্ত্রসমর্পণ করলে হানাদারমুক্ত হয় ধানুয়া কামালপুর রণাঙ্গন।
ঘাঁটি মুক্ত হওয়ার পরই মাঠে প্রথমবার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মুক্তিযোদ্ধারা। সেই স্মৃতিকে ধারণ করে ১৯৭১ সালের পর থেকেই ৪ ডিসেম্বর ধানুয়া কামালপুর মুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।





