
মহান মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান এবং বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।
বর্ণাঢ্য সামরিক জীবন ১৯৩০ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করা এ কে খন্দকার ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬০ সাল পর্যন্ত তিনি ফাইটার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর ও স্কোয়াড্রন কমান্ডার হিসেবেও তিনি তার দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৬৯ সালে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমানে ঢাকা) পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে নিযুক্ত হন।
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারত যান এবং প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের গঠিত ‘মুক্তিবাহিনী’র ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় তিনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সাক্ষী ও প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়। ২০১১ সালে তিনি লাভ করেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ‘স্বাধীনতা পদক’। বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ২০০৮ সালে পাবনা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পৃথক শোক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেছেন। পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সামরিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হবে।





