
ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে র্যাব। হত্যাকাণ্ডের আগে দিপুকে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেছিলেন কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার এবং পরবর্তীতে তাকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১৪-এর পরিচালক নাইমুল হাসান।
র্যাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য র্যাব জানায়, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানির ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেন ভুক্তভোগী দিপুকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করান। এরপর তাকে পুলিশের হাতে না দিয়ে কারখানার বাইরে অপেক্ষমাণ উত্তেজিত জনতার কাছে হস্তান্তর করেন। র্যাব কর্মকর্তা নাইমুল হাসান বলেন, “ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ কেন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে জনতার হাতে তুলে দিল, সেই দায় এড়ানো যায় না। এ কারণেই ফ্লোর ম্যানেজারসহ দুজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।”
গুজব ও হত্যাকাণ্ড ধর্ম অবমাননার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে র্যাব পরিচালক বলেন, “কে বলেছে, কী বলেছে—এমন কোনো তথ্য কেউ দিতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো পূর্ব শত্রুতার জেরে গুজব ছড়িয়ে এই নৃশংসতা ঘটানো হয়েছে।” উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দিপুকে পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাকে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে বর্বরোচিত কায়দায় পোড়ানো হয়।
গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপ এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেন (৩৮) এবং কোয়ালিটি ইনচার্জ মিরাজ হোসেন আকন (৪৬) রয়েছেন। বাকিরা হলেন—তারেক, লিমন, মানিক, এরশাদ, নিঝুম, আজমল, শাহিন এবং নাজমুল। পুলিশ ও ডিবি অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করে। র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন।
গত শুক্রবার দিপুর ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।





