
রাজধানীর উত্তরা ও নিকুঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক জালিয়াতি চক্রের গোপন ডেরার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সেখানে নামী ব্র্যান্ড আইফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জোড়া লাগিয়ে (এসেম্বল) তৈরি করা হতো হুবহু নতুনের মতো স্মার্টফোন। এই ঘটনায় চক্রের মূল হোতা ৩ চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির মিরপুর ডিভিশনের ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ৩৬৩টি বিভিন্ন মডেলের আইফোন, বিপুল পরিমাণ খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ৮ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। জব্দ করা এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা।
ডিবির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই চক্রটি অবৈধ পথে বিদেশ থেকে আইফোনের মাদারবোর্ড, বডি, স্ক্রিনসহ বিভিন্ন পার্টস দেশে নিয়ে আসত। এরপর উত্তরার গোপন কারখানায় দক্ষ কারিগর দিয়ে সেগুলো জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ আইফোন তৈরি করা হতো। এরপর সেগুলোকে নিখুঁতভাবে মোড়কজাত (প্যাকেজিং) করে বাজারের নামী দোকানগুলোতে ‘অরিজিনাল’ আইফোন হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করা হতো। সাধারণ গ্রাহকের পক্ষে এই ‘ক্লোন’ ফোন ও আসল ফোনের পার্থক্য বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল।
ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, এই চক্রের সঙ্গে কেবল বিদেশিরাই নন, রাজধানীর বেশ কিছু অসাধু মোবাইল ব্যবসায়ীও জড়িত। তিনি বলেন, “এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। আমরা জড়িত দেশীয় চক্রটিকেও শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাধারণ গ্রাহকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, অননুমোদিত দোকান বা অস্বাভাবিক কম দামে দামি ব্র্যান্ডের ফোন কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সচেতন হতে হবে, নয়তো প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি ১০০ শতাংশ।





