
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফ ও ভারতীয় নাগরিকদের হাতে বাংলাদেশি হত্যার হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে মানবাধিকার সংগঠন ‘সপ্রাণ’ আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে আসে। ফেলানী হত্যার ১৫ বছর উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় সীমান্ত পরিস্থিতিকে মানবিক ও কাঠামোগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিশ্লেষণের আহ্বান জানানো হয়।
হত্যার পরিসংখ্যান ও নতুন নৃশংসতা মূল প্রবন্ধে গবেষক নূসরাত জাহান নিশু উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩২ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গত পাঁচ বছরের তুলনায় যা সর্বোচ্চ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
-
২০২৫: ৩২ জন
-
২০২৪: ২৪ জন
-
২০২৩: ২৮ জন
-
২০২২: ১৮ জন
-
২০২১: ১৭ জন
আলোচনায় জানানো হয়, হত্যার ধরনে নতুন নৃশংসতা যুক্ত হয়েছে—যেমন অ্যাসিড দিয়ে লাশ পুড়িয়ে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া। এছাড়া সীমান্তের পাশে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের বৈধভাবে অস্ত্র প্রদানের বিষয়টিও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
জোরপূর্বক পুশ-ইন ও নির্যাতন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালে ভারত থেকে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জন বাংলাভাষী মুসলিম নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া (পুশ-ইন) হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সীমান্তে মোট ৬২৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যার মধ্যে ২৫ জন শিশু। এছাড়া ৮০৮ জন শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
আইনি জটিলতা ও ভুক্তভোগীদের ভয় দৃক-এর পারভেজ আহমেদ রনি জানান, হত্যার পর মরদেহ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিলম্ব চরমে পৌঁছেছে। অনেক সময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। ‘অধিকার’-এর ডকুমেন্টেশন কর্মকর্তা জারিন ইতু জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রচণ্ড ট্রমায় ভুগছে, যার ফলে তারা বিচার চাইতে ভয় পাচ্ছে এবং প্রশাসনের চাপের কারণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চায় না।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ সাউথ এশিয়ান গবেষকদের ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণের আহ্বান জানান উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. সাঈদ ফেরদৌস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকি বলেন, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে পারলে সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে জোরালো দর-কষাকষি সম্ভব। সমাপনী বক্তব্যে সপ্রাণের গবেষণা পরিচালক মো. জারিফ রহমান বলেন, সীমান্ত সংকট কেবল জাতীয়তাবাদী বয়ান দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়, সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতাকে বুঝতে হবে।





