
কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি অবস্থায় মৃত স্ত্রী ও ৯ মাসের দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে শেষ বিদায় জানালেন বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিটির সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার ফটকে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়, যেখানে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য নিথর স্ত্রী-সন্তানকে দেখার সুযোগ পান তিনি।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়িতে তাঁর স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের মৃত্যু হয়। স্বজন ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বামীর দীর্ঘ কারাবাস ও অনিশ্চয়তা থেকে সৃষ্ট চরম মানসিক হতাশা থেকেই এই করুণ পথ বেছে নিয়েছেন স্বর্ণালী। তিনি প্রথমে শিশু নাজিমকে পানিভর্তি বালতিতে চুবিয়ে হত্যা করেন এবং পরে নিজে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।
সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন মঞ্জুর না হলেও মানবিক কারণে কারা কর্তৃপক্ষ মরদেহ কারাগারের ভেতরে নেওয়ার অনুমতি দেয়। সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটক দিয়ে ছয়জন নিকটাত্মীয়সহ মরদেহ দুটি ভেতরে নেওয়া হয়। সেখানে সাদ্দাম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখেন। ৫ মিনিট পরেই মরদেহ নিয়ে স্বজনরা বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং সাদ্দামকে পুনরায় কারাগারে তাঁর ওয়ার্ডে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
স্বজনরা জানান, স্বর্ণালী তাঁর স্বামীকে খুব ভালোবাসতেন। সাদ্দাম কারাগার থেকে প্রায়ই স্ত্রীকে দ্রুত মুক্তির আশ্বাস দিয়ে চিরকুট পাঠাতেন, যা স্বর্ণালীর ওপর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। স্বামীর মুক্তির কোনো পথ না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
শনিবার রাত ১১টার দিকে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে জানাজা শেষে মা ও শিশুকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। জানাজায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনদের কান্নায় ওই এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
জুয়েল হাসান সাদ্দাম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।





