
একসময়ের বিএনপির শক্তিশালী দুর্গ হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ী-২ আসনে এবার লড়াইয়ের চিত্র বহুমাত্রিক। প্রচার শুরুর পর থেকেই পাংশা, বালিয়াকান্দি ও কালুখালীর রাজনৈতিক মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে বিএনপির মূল লড়াই এখন আর অন্য কোনো দলের সঙ্গে নয়, বরং নিজেদের ঘরের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সঙ্গেই।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত পরিসংখ্যানে এই আসনে বিএনপির আধিপত্য থাকলেও এবার দলীয় কোন্দল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হারুনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু।
হারুন-অর-রশিদের অভিযোগ, সাবু সাহেব আওয়ামী লীগের সাবেক প্রভাবশালী ও পেশিশক্তিনির্ভর কর্মীদের ওপর ভর করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। তবে নাসিরুল হক সাবু পাল্টা দাবি করেছেন, সাধারণ কর্মীরা তাঁর সঙ্গেই আছেন এবং জনগণই তাঁর মূল শক্তি।
১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের কারণে শেষ মুহূর্তে জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। জোটের সমঝোতা অনুযায়ী জামায়াতের বিশাল ভোটব্যাংক এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী জামিল হিজাজী ওরফে সাইয়েদ জামিল-এর সমর্থনে কাজ করছে। জামিল হিজাজী অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসনের কেউ কেউ বিএনপির দিকে ঝুঁকে রয়েছে এবং তাঁর কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে জামায়াতের পূর্ণ সমর্থন পাওয়ায় তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিউল আজম খান নিজেকে এই আসনের ‘বড় ফ্যাক্টর’ মনে করছেন। ১৯৯৬ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ভোটাররা তাঁকেই বেছে নেবেন। তবে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল হক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হেভিওয়েট প্রার্থীদের বাইরেও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন:
-
জাহিদ শেখ: গণঅধিকার পরিষদ।
-
হাফেজ আব্দুল মালেক: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
-
মিনহাজুল আলম: খেলাফত মজলিস।
-
আব্দুল মালেক মণ্ডল: সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট।
-
সোহেল রানা: স্বতন্ত্র প্রার্থী।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের সমর্থকদের ভোট কোন বাক্সে পড়বে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সব মিলিয়ে রাজবাড়ী-২ আসনের সাধারণ ভোটাররা এখন মুখিয়ে আছেন একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য।
এক নজরে রাজবাড়ী-২ নির্বাচনী পরিসংখ্যান:
-
মোট ভোটার: ৫,৫৯,৬৯৬ জন (জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)।
-
পুরুষ ভোটার: ২,৮৫,৫৪৪ জন।
-
নারী ভোটার: ২,৭৪,১৪৬ জন।
-
প্রধান লড়াই: হারুন-অর-রশিদ (বিএনপি) বনাম নাসিরুল হক সাবু (স্বতন্ত্র)।





