
২১ জুলাই ২০২৫, রাজধানীর উত্তরায় ভয়াবহ এক বিমান দুর্ঘটনায় জাতি শোকাহত। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি F-7 BGI প্রশিক্ষণ বিমান দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম শহীদ হন এবং অন্তত ২০ জন নিহত ও আরও ১৭০ জনের বেশি আহত হন। দুর্ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে চলছিল ক্লাস, ফলে অধিকাংশ হতাহতই শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানটি আকাশে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল এবং হঠাৎ করে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পাইলট চাইলেই প্যারাসুট ব্যবহার করে নিজেকে রক্ষা করতে পারতেন, কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বিমানটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে সেটিকে জনবিরল স্থানে নামাতে চেষ্টা করেন। তার এই আত্মত্যাগ দেশপ্রেম, সাহস ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত। ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। আহতদের মধ্যে অনেকে দগ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং তাদেরকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জাতীয়ভাবে এই দুর্ঘটনায় শোক ঘোষণা করা হয়েছে, এবং আগামীকালকে সরকারিভাবে শোক দিবস ঘোষণা করে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একইসাথে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যাতে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যায়। জাতি আজ এক সাহসী সন্তানের আত্মোৎসর্গের সামনে মাথা নত করেছে। শহীদ তৌকিরসহ সকল নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাঁদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।





