
পর্দার নয়, বাস্তবের এক ‘নায়ক’ হিসেবে আবির্ভূত হলেন শরীয়তপুরের জসিম উদ্দিন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটি কিডনি দান করে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনলেন স্ত্রী মিনারা বেগমকে। গত ৫ মার্চ রাজধানীর শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে এই সফল কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। জসিমের এই নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের গল্প এখন শরীয়তপুরসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মুখে মুখে ফিরছে।
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের বসকাঠি গ্রামের বাসিন্দা জসিম ও মিনারার দাম্পত্য জীবন প্রায় ১৯ বছরের। দুই বছর আগে হঠাৎ মিনারার উচ্চ রক্তচাপসহ নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে তাঁর দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে। মিনারার মা কিডনি দিতে চাইলেও স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে চিকিৎসকরা তা নাকচ করে দেন। দাতা না পাওয়ায় মিনারার জীবন যখন সংকটের মুখে, তখনই ঢাল হয়ে দাঁড়ান স্বামী জসিম।
স্ত্রীর প্রাণ বাঁচাতে জসিম নিজেই কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মিনারা বারবার নিষেধ করলেও জসিম ছিলেন অটল। জসিম উদ্দিন বলেন, “স্ত্রীর এমন অবস্থায় কী করব বুঝতে পারছিলাম না। তখন সিদ্ধান্ত নেই—বাঁচলে একসঙ্গে বাঁচব, মরলে একসাথে। স্ত্রীকে সুস্থ দেখতে পারাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া।”
শ্যামলীর একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জসিমের একটি কিডনি মিনারার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। বর্তমানে মিনারা বেগম ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তাঁদের একমাত্র সন্তান তামিম আল মারুফকে নিয়ে তাঁরা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।
কুচাইপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম নাসির উদ্দিন স্বপন এই ঘটনাকে ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “জসিম উদ্দিন প্রমাণ করেছেন সত্যিকারের ভালোবাসা এখনো টিকে আছে। এটি আমাদের সমাজের জন্য একটি বড় শিক্ষা।”
২০০৭ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির জীবনে এই ত্যাগ কেবল একটি অঙ্গদান নয়, বরং একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ও মমতার এক জীবন্ত দলিল হয়ে থাকবে।




