
সিলেটের ভোলাগঞ্জ এক সময় ছিল টলমলে ধলাই নদী, সাদা পাথর আর সবুজ পাহাড়ের অপূর্ব সমন্বয়। পর্যটকদের কাছে এ স্থান ছিল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু এখন সেখানে দেখা যাচ্ছে গর্তে ভরা নদীর তলদেশ, ঘোলা পানি আর পাথরশূন্য বালুচর।
২০২০ সালে পরিবেশগত কারণে দেশের সব পাথর কোয়ারি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে রাজনৈতিক চাপ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সমর্থনে ভোলাগঞ্জে রাতদিন চলছে অবৈধ পাথর উত্তোলন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পরও এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি; বরং বিএনপিসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দল কোয়ারি চালুর দাবিতে একাট্টা হয়। সরকারি অভিযান, মামলাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপও এই লুটপাট থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, অবিলম্বে পাথর উত্তোলন বন্ধ ও রাজনৈতিক সমর্থন প্রত্যাহার না করলে ভোলাগঞ্জের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ও কয়েকটি সংগঠন ছাড়া স্থানীয়ভাবে কেউই পাথর উত্তোলনের বিপক্ষে দাঁড়ায়নি।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে অবৈধ পাথর উত্তোলনের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক সংগঠন সরব হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে কয়েকটি নৌকা ভাঙা ও পাথর বোঝাই নৌকা আটক করা হয়। এমনকি পাথর উত্তোলনের অভিযোগে বিএনপির এক শীর্ষ স্থানীয় নেতার দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ ছাড়া সরকারের একার পক্ষে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর রক্ষা করা সম্ভব নয়।





