
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে চলছে এক নীরব বিপর্যয়। একসময় যেখানে বিনিয়োগ আর পর্যটকের ভিড়ে মুখর ছিলো পুরো দ্বীপ, আজ সেখানে রিসোর্ট বিক্রির হিড়িক — জীবিকার তাগিদে দ্বীপ ছেড়ে যাচ্ছেন বহু মানুষ।
দ্বীপের মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল মাছ ধরা ও পর্যটন ব্যবসা। তবে গতবছর থেকে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পর্যটক সংখ্যা সীমিত করায় সেই ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়েছে। নভেম্বর থেকে পর্যটকদের দিনভ্রমণের অনুমতি থাকলেও রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ।
ফলে পর্যটকরা দীর্ঘ ছয় ঘণ্টার নৌপথ পাড়ি দিয়ে এসে মাত্র দুই ঘণ্টা থেকে ফেরত যান— এতে ব্যবসা একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তা হাফেজ আবুল হোসেন, যিনি ‘দ্বীপ কুটির’ নামের একটি রিসোর্টের মালিক, বলেন—
“আগে রিসোর্টের আয়ে পুরো সংসার চলত। কিন্তু এখন পর্যটক নেই, আয় বন্ধ। তাই বাধ্য হয়ে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ব্যবসায়ী আবদুল মালেক বলেন,
“সরকার পর্যটন সীমিত করেছে কিন্তু বিকল্প আয়ের কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। কয়েক কেজি ত্রাণ দিয়ে সংকট সমাধান হয় না।”
অন্যদিকে, সেন্টমার্টিন হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুর রহিম জিহাদী অভিযোগ করেছেন,
“দ্বীপের রুটি-রুজি বন্ধ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষার নামে পর্যটন বিমুখ করার ষড়যন্ত্র চলছে।”
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন,
“নভেম্বর থেকে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে, তবে রাত্রিযাপনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”
#সেন্টমার্টিনে রিসোর্ট বিক্রির হিড়িক





