
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে এখন টান টান উত্তেজনা। ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে, ঘাঁটি স্থাপন করছে—আর বাংলাদেশ করছে উল্টো কাজ: সীমান্ত থেকে সেনা ক্যাম্প গুটিয়ে নিচ্ছে! প্রশ্ন উঠছে, কার স্বার্থে এই নীরবতা? কী কৌশলে এই আত্মসমর্পণ?
আসাম, উত্তর দিনাজপুর, বিহার, পশ্চিমবঙ্গের হাসিমারা—সব জায়গায় ভারত গড়ে তুলছে আধুনিক সেনা ঘাঁটি। রাফালে যুদ্ধবিমান, এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং নতুন টেরিটোরিয়াল আর্মি ব্যাটালিয়ন গঠন করছে মিজোরামে—স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর প্রথমবারের মতো।
এদিকে ত্রিপুরার রাজপরিবারের সদস্য প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য দেববর্মা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম অঞ্চলকে দাবি করে “গ্রেটার ত্রিপুরা ল্যান্ড” গঠনের ডাক দিয়েছেন—যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সরাসরি হুমকি।
রাখাইনে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাত তীব্র হয়েছে। “অপারেশন ১০২৭”-এর পর থেকে সীমান্তে গুলি, মর্টার শেল পড়ছে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। উদ্বাস্তু প্রবাহ ও অস্ত্র পাচার বাড়ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে ক্রমেই।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ উল্টো দিকেই হাঁটছে।
১৯৯৭ সালের “পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি”র পর থেকে ২৪১টি সেনা ক্যাম্প গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফলে ইউপিডিএফ ও জেএসএসসহ সশস্ত্র সংগঠনের তৎপরতা বেড়েছে—অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্র পাচার।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্প্রতি ২৫০টি নতুন ক্যাম্প স্থাপনের প্রস্তাব দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল—ফেনী, রামগড়, রাঙামাটি, বান্দরবান ও মিরসরাই অঞ্চল কৌশলগতভাবে সবচেয়ে স্পর্শকাতর।
এই অঞ্চলেই ভারতকে ১,১৫০ একর জমি দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের জন্য—যার অবস্থান বাংলাদেশের ‘চিকেন নেক’-এর কাছেই। প্রশ্ন উঠছে, সেখানে ভারতীয় ব্যবসায়ী ও প্রকৌশলীদের আড়ালে সেনা বা গোয়েন্দা কার্যক্রম হচ্ছে কি না, তা কি বাংলাদেশ জানে?
ভারত ও মিয়ানমার যখন সীমান্তে শক্তি বাড়াচ্ছে, তখন বাংলাদেশ সেনা কমাচ্ছে—এটাই আজকের বাস্তবতা।
ভূরাজনৈতিক এই ভারসাম্যহীনতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক। রাষ্ট্রকে এখনই নতুন করে ভাবতে হবে—
-
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন,
-
আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা,
-
এবং সর্বদলীয় জাতীয় নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন ছাড়া বিকল্প নেই।
“পার্বত্য চট্টগ্রাম, ফেনী ও মিরসরাই আজ শুধু ভৌগোলিক অঞ্চল নয়—এগুলোই বাংলাদেশের কৌশলগত হৃদস্পন্দন।
এই অঞ্চলে রাষ্ট্রের উপস্থিতি কমে গেলে, সার্বভৌমত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে।”
— এ এইচ এম ফারুক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
#সীমান্তে সেনা বাড়াচ্ছে ভারত-মিয়ানমার





