
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকাকে ঘিরে তৃণমূলে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। ঘোষিত ২৩৬ আসনের মধ্যে অন্তত ৪০টিরও বেশি আসনে মনোনয়ন নিয়ে বিক্ষোভ, অবরোধ, পাল্টা–কর্মসূচি চলতে থাকায় নীতিনির্ধারকদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, মনোনয়ন পাওয়া ও বঞ্চিত—উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন। বঞ্চিতদের সমর্থকেরা বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, মানববন্ধন, মহাসড়ক অবরোধ করে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। পাল্টা অবস্থানে থাকছেন ঘোষিত প্রার্থীদের সমর্থকেরাও। এতে স্থানীয় পর্যায়ে বিভক্তি বাড়ছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো লাভবান হচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতারা।
চাঁদপুর–২: তানভীর হুদার সমর্থকদের বিক্ষোভ অব্যাহত।
সুনামগঞ্জ–৫: মিজানুর রহমান চৌধুরীকে প্রার্থী করার দাবিতে প্রতিদিন আন্দোলন।
কুষ্টিয়া–১ ও ৪: শরিফ উদ্দিন জুয়েল ও শেখ সাদীর সমর্থকদের চাপ; স্থানীয় নেতাদের আশঙ্কা—প্রার্থী না বদলালে ‘অঘটন’ হতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৪: কবির আহমদ ভুঁইয়ার পক্ষে নিয়মিত কর্মসূচি।
নরসিংদী–৪: আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলকে প্রার্থী করার দাবি শক্তিশালী হচ্ছে।
নাটোর–১: তাইফুল ইসলাম টিপুকে মনোনয়ন দিতে বিক্ষোভ–সমাবেশ।
নারায়ণগঞ্জ–২: সব বঞ্চিত প্রার্থী একজোট হয়ে মাহমুদুর রহমান সুমনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি তুলেছেন।
গাইবান্ধা–২: সাবেক সচিব আমিনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার আন্দোলন জোরালো।
চট্টগ্রাম–১২ ও ১৩: এনামুল হক ও সরওয়ার জামাল নিজামের প্রার্থিতা ঘিরে আন্দোলন চলছে।
আরও যেসব আসনে সংঘাত অব্যাহত
চট্টগ্রাম–৪ ও ১৬, সিলেট–৬, রংপুর–৩, সাতক্ষীরা–২ ও ৩, গাইবান্ধা–৪, ঠাকুরগাঁও–৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ–২, কুড়িগ্রাম–২, নোয়াখালী–৫, নীলফামারী–৪, দিনাজপুর–২, হবিগঞ্জ–৪, জয়পুরহাট–১ ও ২, ময়মনসিংহ–৩, ৬, ৯ ও ১১, মুন্সীগঞ্জ–২, কুমিল্লা–৫, ৬ ও ১০, রাজশাহী–৪ ও ৫, রাজবাড়ী–২, নওগাঁ–১, ৩ ও ৪, পাবনা–৪, মৌলভীবাজার–২সহ আরও বেশ কিছু আসনে অস্থিরতা বাড়ছে।
মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত
প্রার্থী–সংক্রান্ত বিরোধ নিরসনে গুলশান কার্যালয়ে একাধিক বৈঠক করেছে বিএনপি। মাঠপর্যায়ের তদন্ত টিম বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের শক্তি–দুর্বলতা ও জনমতের অবস্থান যাচাই করছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন,
“ঘোষিত তালিকা চূড়ান্ত নয়। প্রয়োজন হলে পরিবর্তন করা হবে। অনেক এলাকায় একাধিক যোগ্য নেতা থাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে; তাদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।”
তথ্যসুত্রঃযুগান্তর ।





