
তুর্কি টেলিভিশন সিরিজ এখন আর শুধু তুরস্কেই সীমাবদ্ধ নয়—আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে এগুলো শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অনন্য কাহিনি নির্মাণ, আবেগময় দৃশ্য, উচ্চ মানের প্রোডাকশন ও সাংস্কৃতিক উপস্থাপনার কারণে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে দক্ষিণ এশিয়া—সব অঞ্চলের দর্শকদের মন জয় করে চলেছে তুর্কি ড্রামা।
রাশিয়ায় ‘কুরুলুস : ওসমান’-এর উন্মাদনা
২০২৪ সালে রুশ দর্শকদের মধ্যে তুমুল জনপ্রিয়তা পায় ঐতিহাসিক সিরিজ ‘কুরুলুস : ওসমান’। উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম উসমানের জীবনগাথা নিয়ে নির্মিত এই ধারাবাহিক রাশিয়ায় এক নতুন দর্শকধারার জন্ম দিয়েছে।
ঐতিহাসিক পটভূমির নিখুঁত চিত্রায়ণ, যুদ্ধ–রাজনীতি–বিশ্বাস–ঐতিহ্যের মিশেল এবং চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা রুশ দর্শকদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে। তুর্কি সংস্কৃতি, পারিবারিক আবেগ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও এ আগ্রহকে আরও বাড়িয়েছে।
লাতিন আমেরিকায় তুর্কি নাটকের উষ্ণ অভ্যর্থনা
লাতিন আমেরিকার দর্শকরাও তুর্কি ড্রামাকে গ্রহণ করেছেন টেলেনোভেলার বিকল্প হিসেবে। কারণ—
-
পরিবারকেন্দ্রিক আবেগময় গল্প
-
সম্পর্ক, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা ও ট্র্যাজেডির নাটকীয় নির্মাণ
-
দৃশ্যমান সৌন্দর্য ও সিনেমাটিক উপস্থাপনা
লাতিন দর্শকদের কাছে তুর্কি সিরিজ এখন নিজস্ব সংস্কৃতির গল্পের মতোই গ্রহণযোগ্য।
বাংলাদেশে জনপ্রিয়তার কারণ
বাংলাদেশেও ‘সুলতান সুলেমান’, ‘এরতুগ্রুল’, ‘কুরুলুস ওসমান’, ‘ইউনুস এমরে’—এসব সিরিজের ব্যাপক দর্শকশ্রেণি তৈরি হয়েছে। এর কারণ–
-
ইসলামি ইতিহাস ও গৌরবময় অতীতের কাহিনির প্রতি আগ্রহ
-
উচ্চমাত্রার আবেগ, পারিবারিক বন্ধন ও নৈতিক বার্তা
-
শক্তিশালী চরিত্র নির্মাণ
-
এক্ষেত্রে ভারতীয় বা পশ্চিমা কনটেন্টের তুলনায় নতুন ভিন্ন স্বাদ
ফেসবুক, ইউটিউব ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিয়মিত আলোচনার কারণে এসব সিরিজের প্রভাব আরও বাড়ছে।
টিভি ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আধিপত্য
বর্তমানে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশে প্রচারিত তুর্কি সিরিজ বৈদেশিক বাজারে তুরস্ককে অন্যতম বড় কনটেন্ট এক্সপোর্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। ঐতিহাসিক সিরিজ থেকে প্রেমকাহিনি—সব ধরনের কাহিনিতেই ধরে রেখেছে দর্শকদের মনোযোগ।





