
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ী-২ (পাংশা-কালুখালী-বালিয়াকান্দি) আসন এখন ইসলামি ৮ দলীয় জোটের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কে হচ্ছেন ইসলামি জোটের প্রার্থী— এ প্রশ্নে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে আলাদা কৌতূহল।
আগামী নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা প্রতীক) থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন হাফেজ মাওলানা আব্দুল মালেক।পেশায় তিনি সুর্য্যদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক । তিনি কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কালুখালী উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কালুখালী উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম আশরাফি জানান, দলের কেন্দ্রীয় কমিটি সারাদেশে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। রাজবাড়ী-২ আসনে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচন করবেন হাফেজ আব্দুল মালেক।
মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় আব্দুল মালেক বলেন, “রাজবাড়ী-২ আসনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় জনগণ সহযোগিতা করবেন বলে আমি আশাবাদী। পীর সাহেব চরমোনাইয়ের হাতকে শক্তিশালী করতে চাই।”
অন্যদিকে গত ২৬ মে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজবাড়ী জেলা শাখার কর্মপরিষদ সভায় রাজবাড়ী-২ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় হারুন-অর-রশীদের নাম। তিনি জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি এবং দীর্ঘদিন পাংশা উপজেলা আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পেশায় শিক্ষক হারুন-অর-রশীদের বাড়ি পাংশা পৌরসভার মাগুড়াডাঙ্গী গ্রামে।
ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংকের ওপর ভরসা করে নির্বাচনী মাঠে শক্ত অবস্থান নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন দুই প্রার্থীই। রাজনৈতিক সূত্র বলছে, এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ, খেলাফত মজলিসসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
রাজবাড়ী-২ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ৯২ হাজার ৮৫২ জন পুরুষ, ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৯৪ জন নারী এবং ৩ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার। গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের উপস্থিতি রয়েছে, পাশাপাশি ইসলামি আন্দোলন ও জামায়াতের নীরব সাংগঠনিক প্রভাবও সক্রিয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।





