
শীত মৌসুমের শুরুতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি এড়াতে রাজবাড়ীতে কঠোর সতর্কতা জারি করেছেন সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই কাঁচা রস পান করা যাবে না; তবে আগুনে ভালোভাবে জ্বাল দিয়ে খেলে ঝুঁকি থাকে না।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নিপাহ ভাইরাস প্রধানত বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। বাদুড়ের লালা বা মল দ্বারা দূষিত কাঁচা খেজুরের রস কিংবা ফল খেলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকেও এ ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। তিনি জানান, এই রোগে মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সিভিল সার্জনের ভাষ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা ও পেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও গলা ব্যথা দেখা যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে অসংলগ্ন প্রলাপ, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, নিউমোনিয়া ও তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রোগী সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়তে পারেন। সুস্থ হওয়ার পরও কারও কারও দীর্ঘমেয়াদি মস্তিষ্কজনিত জটিলতা থেকে যেতে পারে।
ডা. মাসুদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নিপাহ ভাইরাস একটি অত্যন্ত জটিল রোগ। এর কোনো সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিডোট বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই একমাত্র ভরসা, যা জটিল ও ব্যয়বহুল।
তিনি আরও জানান, জনসচেতনতা বাড়াতে রাজবাড়ী সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নিয়মিত লিফলেট বিতরণ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সংবাদকর্মীদেরও সচেতনতা বৃদ্ধিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
নিপাহ ভাইরাস প্রতিরোধে সিভিল সার্জনের পরামর্শ:
-
খেজুরের রস: কাঁচা রস পরিহার করুন; ফুটিয়ে বা ভালোভাবে জ্বাল দিয়ে পান করুন।
-
পাখি বা বাদুড়ের খাওয়া ফল: আংশিক খাওয়া বা খুঁটানো ফল খাবেন না।
-
আক্রান্তের সেবা: রোগীর সেবায় গ্লাভস ও মাস্ক ব্যবহার করুন এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।





