
রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে সরকারিভাবে সরবরাহকৃত জলাতঙ্ক টিকার (র্যাবিস ভ্যাকসিন) প্রকট সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে বিনামূল্যে টিকা না পেয়ে রোগীরা ফার্মেসিতে ছুটলেও সেখানে মিলছে না এই জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন। ফলে জেলাজুড়ে চরম ভোগান্তি ও আতঙ্কে রয়েছেন বন্যপ্রাণীর কামড়ে আক্রান্ত সাধারণ মানুষ।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের ২০৩ নম্বর কক্ষের সামনে সাদা কাগজে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে—‘গত ১৩/১২/২০২৫ তারিখ থেকে র্যাবিস ভ্যাকসিন সাপ্লাই নেই’। প্রতিদিন এই হাসপাতালে গড়ে ২০০ থেকে ২২০ জন রোগী টিকা নিতে আসলেও বর্তমানে তারা নিরুপায় হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মাসে ৪ হাজার টিকার চাহিদা থাকলেও গত মাসে মাত্র ৫০০ পিস বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল, যা মাত্র কয়েক দিনেই শেষ হয়ে যায়।
পাংশা থেকে আসা মো. আল আমিন শেখ জানান, তার তৃতীয় ডোজের দিন আজ, কিন্তু কোথাও টিকা পাচ্ছেন না। এর আগে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দিয়ে বাইরে থেকে সংগ্রহ করেছিলেন। গোয়ালন্দ থেকে আসা সোনিয়া আক্তার জানান, তাঁর মেয়েকে কুকুরে আঁচড় দিয়েছে, প্রথম ডোজ দিলেও দ্বিতীয় ডোজের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরেও টিকা পাচ্ছেন না। দাদশী ইউনিয়নের কৃষ্ণ কুমার হালদার বলেন, “গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত সব দোকানে খুঁজেছি, কোথাও নেই। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।”
শহরের ওষুধ বিক্রেতারা জানান, ইনসেপ্টা ও পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস এই টিকা সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু ২০ দিন ধরে কোম্পানিগুলো কোনো নতুন টিকা দিচ্ছে না। ৫০০ টাকা নির্ধারিত দাম থাকলেও সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে অথবা চারজনের গ্রুপ করে একটি ভায়াল শেয়ার করতে হচ্ছে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “সারাদেশেই টিকার সংকট চলছে। আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি কিন্তু স্টোরে টিকা নেই। কবে আসবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।”
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ জানান, ঢাকা থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপজেলা হাসপাতালগুলোতেও টিকা দেওয়া যাচ্ছে না। তবে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং টিকা আসামাত্রই বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।
শীতকালে কুকুর-বিড়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় টিকার এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে জেলাজুড়ে জলাতঙ্ক রোগের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক নজরে জলাতঙ্ক টিকার সংকট:
-
সংকট শুরু: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে।
-
মাসিক চাহিদা: প্রায় ৩,৫০০ – ৪,০০০ ডোজ।
-
বর্তমান অবস্থা: হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান—উভয় জায়গায় শূন্য।
-
ভুক্তভোগী: দৈনিক গড়ে ২০০ – ২৫০ জন।





