
টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট নিরসনে সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সহসা মিলছে না সমাধান। এলপিজির বাজার প্রায় সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। জ্বালানি উপদেষ্টার পক্ষ থেকে সরকার নিজেই গ্যাস আমদানির কথা বলা হলেও, আমদানিকৃত গ্যাস বোতলজাত ও বিতরণের পর্যাপ্ত সক্ষমতা সরকারের নেই। ফলে বিদ্যমান সংকটের সমাধান হতে আরও অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশে বার্ষিক এলপিজির চাহিদা ১২ থেকে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে সরকারি অংশীদারিত্ব মাত্র ২ শতাংশ। সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘এলপি গ্যাস লিমিটেড’ বছরে মাত্র ৩৩ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস উৎপাদন করে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। বাকি ৯৮ শতাংশ চাহিদাই মেটায় বেসরকারি কোম্পানিগুলো। গত ডিসেম্বরে দেশের ২৩টি আমদানিকারক কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০টি কোম্পানি গ্যাস আমদানি করেছে, বাকি ১৩টি কোম্পানি ডলার সংকট ও অভ্যন্তরীণ সমস্যায় আমদানি করতে পারেনি।
খাত-সংশ্লিষ্টরা জানান, সংকটের মূলে রয়েছে বাজারের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোর অচল অবস্থা।
-
বড় কোম্পানির সরবরাহ বন্ধ: বসুন্ধরা গ্রুপ পর্যাপ্ত আমদানি করতে পারছে না। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বেক্সিমকো ও এস আলম গ্রুপের মতো প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর অবস্থাও নাজুক।
-
ডলার ও এলসি জটিলতা: অনেক কোম্পানি সময়মতো ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারছে না।
-
মজুতদারি: বড় কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা সংকটের আশঙ্কায় আগাম মজুত শুরু করেছেন, যা কৃত্রিম সংকটকে আরও উসকে দিয়েছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, সংকট কাটাতে আমদানির ওপর ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং এলসি খোলার ক্ষেত্রে ২৭০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, আমদানির বিকল্প নেই। তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা সাড়া না দিলে সরকারকে এলপিজি আমদানি শুরু করতে হবে।” তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানির পর তা সিলিন্ডারজাত করার অবকাঠামো তৈরিতে দীর্ঘ সময় ও বিশাল বিনিয়োগ প্রয়োজন।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিম মনে করেন, দামের চেয়েও এখন বড় সমস্যা হলো সরবরাহ নিশ্চিত করা। সরবরাহ না বাড়লে ভোগান্তি কমবে না। অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)-এর সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান, অল্প অল্প করে কার্গো আসা শুরু হয়েছে এবং আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




